শিরোনাম:
চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ছয় হাজার ৫০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি অবশেষে সিনেমার নায়ক হচ্ছেন আফরান নিশো সহযোগিতা চেয়ে ন্যাটো সদস্যদের প্রতি আহ্বান ইউক্রেনের আফগানিস্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলায় নিহত ১৫ আহত ২০ নাটোর জেলায় দুই কোটি ৪৫ লাখ ৪১ হাজার টাকার প্রণোদনা পাচ্ছেন ৪৪ হাজার কৃষক ঢাবি শিক্ষকদেরর গবেষণা ভাতাসহ অন্যান্য বাতিলকৃত সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের দাবি ইরানকে হারিয়ে শেষ ষোলতে যাওয়ার টিকিট পেল যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখসারির যোদ্ধা, ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং গর্ভবতীদের টিকার চতুর্থ ডোজ দেয়ার সুপারিশ তিন মাস অপেক্ষার পর আইন মন্ত্রণালয়ের সাড়া পেল ইসি নতুন করে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছে ব্রাজিল
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাজ্যের এই সরকারি অ্যাপ কেন এত জনপ্রিয়?

প্রতিনিধির / ২৪ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
যুক্তরাজ্যের এই সরকারি অ্যাপ কেন এত জনপ্রিয়?

জনগণের টাকায় পরিচালিত যুক্তরাজ্যের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নাম ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা সংক্ষেপে এনএইচএস। এই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মানুষের মধ্যে এতই জনপ্রিয় যে শুধু ওয়েবসাইটটিই প্রতি মাসে ৫ কোটির বেশিবার ভিজিট করা হয়। বিনা খরচে স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনএইচএসের মোবাইল অ্যাপ ৩ কোটি বার ডাউনলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, অঙ্গদানের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে এবং অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ করতেই বেশি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন।

আজকের পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এনএইচএস ইংল্যান্ড নামের অ্যাপটি প্রথম ২০১৮ সালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালানো হয়। অন্য অনেক সেবার পাশাপাশি এই অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া, ব্যবস্থাপত্রের অর্ডার করা এবং বিদেশভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় কোভিড পাস সংগ্রহ করা যায়।

তবে এনএইচএসের তথ্যমতে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত অঙ্গদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই ৪ লাখ ৪৮ হাজার মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। আগের ১২ মাসের তুলনায় এটা ৬৯ শতাংশ বেশি, যেখানে আগের ১২ মাসে অঙ্গদানের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে ২ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ এই অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।

অ্যাপটি ডাউনলোডের বর্তমান পরিমাণ ইংল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি!

ইংল্যান্ডে মানুষের অঙ্গদানের অঙ্গীকার করার প্রবণতা বেড়েছে। বর্তমানে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন।

এসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের পরই মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা বেড়েছে। ২০২০ সালের মে মাসে অঙ্গদান-সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করা হয়। আগে থেকেই যদি কেউ অঙ্গদানের স্পষ্ট অঙ্গীকার করে না থাকেন, সে ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক স্বজনের অনুমতি লাগে। এটিই পুনর্বহাল করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থা ওয়েলসে ২০১৫ সালে এবং স্কটল্যান্ড ২০২০ সালের মার্চে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অবশ্য পরিবারের সদস্যরা চাইলে এখনো মৃত স্বজনের অঙ্গদান ঠেকিয়ে দিতে পারেন। এনএইচএসের হিসাবে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৬০৫টি এমন ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রিয়জনের অঙ্গচ্ছেদ করতে চাননি।

অবশ্য মাত্র প্রায় ১ শতাংশ মানুষ সফলভাবে অঙ্গদান করতে পারেন। মূলত ব্রেইন ইনজুরি বা হার্ট অ্যাটাকের কারণে আইসিইউ বা জরুরি বিভাগে যাঁদের মৃত্যু হয়, তাঁদের ক্ষেত্রেই অঙ্গদান সম্ভব হয়।

আগে থেকেই অঙ্দানের অঙ্গীকার করার বিষয়টি স্পষ্ট থাকলে, অর্থাৎ লিপিবদ্ধ থাকলে পরিবারের সদস্যরা সাধারণত বাধা দেন না। আর এখন ব্যাপারটা এতই জনপ্রিয় হয়েছে যে, অঙ্গদানের জন্য এনএইচএসের অ্যাপটিতে ৩৭ লাখের বেশি নিবন্ধন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে এনএইচএস অ্যাপ বিভাগের ডিজিটাল ডিরেক্টর অব ডেলিভারি সুসি ডে বলেন, ‘সরাসরি মোবাইল ফোন অথবা ওয়েবসাইট থেকে স্বাস্থ্যসেবা পেতে লাখ লাখ মানুষ এখন এনএইচএস অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এখন পর্যন্ত ৩ কোটির বেশি মানুষ সাইন-আপ করেছেন। সুখের কথা হলো, মানুষ এখন অঙ্গদানের জন্য এই অ্যাপ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছেন। আমরা এর জন্য সবাইকে উৎসাহিত করছি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ