বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:২৯ অপরাহ্ন

মন্দা পরিস্থিতি সামলে স্বস্তি ফিরেছে ঢাকাই সিনেমায়!

প্রতিনিধির / ২০ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২
মন্দা পরিস্থিতি সামলে স্বস্তি ফিরেছে ঢাকাই সিনেমায়!
মন্দা পরিস্থিতি সামলে স্বস্তি ফিরেছে ঢাকাই সিনেমায়!

নব্বই দশকের পুরোটা সময়জুড়ে বাংলা সিনেমার ছিল জয়জয়কার। তবে গত দুই দশকে সিনেমা হলগুলোতে দর্শক সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় দর্শকশূন্য হয়ে পড়ে। দর্শক কমার পাশাপাশি কমেছে হলের সংখ্যাও। দীর্ঘ এ সময় ভালো মানের কিছু সিনেমা নির্মিত হলেও বিপর্যয় কাটাতে সেগুলো যথেষ্ঠ ছিল না।

২০২০ সালে মহামারীর কারণে নতুন করে বিপর্যয় নেমে আসে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। করোনা, প্রেক্ষাগৃহের অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে জর্জরিত ঢাকাই সিনে ইন্ডাস্ট্রি। এতে আটকে যায় বড় বাজেটের প্রায় দেড় ডজন সিনেমা।

করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দর্শক আসবেন কি না, এমন শঙ্কায় সিনেমা মুক্তি নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন পরিচালকেরা।ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘শান’ ও ‘গলুই’ দিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায় দেশীয় সিনেমার ঘুরে দাঁড়ানোর গন্ধ। এরপর ঈদুল আজহায় বাংলা সিনেমা নিয়ে রীতিমতো উন্মাদনা তৈরি হয়। ঈদের তিন ছবি ‘পরাণ’, ‘দিন দ্য ডে’ ও ‘সাইকো’ দেখতে বন্ধুবান্ধব ও পরিবার নিয়ে ভিড় করতে থাকেন দর্শকরা।

অনেকে এই পরিস্থিতিকে চলচ্চিত্রের পালে সুবাতাস হিসেবে দেখছেন। কোরবানি ঈদের সিনেমা বেশ সাড়া ফেলেছে দর্শকদের মাঝে। ফলে নতুন করে হলমুখী হতে দেখা গেছে দর্শকদের।

মন্দা পরিস্থিতি সামলে স্বস্তি ফিরেছে ঢাকাই সিনেমায়। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’র সাফল্যের পর নিয়মিত মুক্তি পাচ্ছে নতুন সিনেমা। প্রেক্ষাগৃহে সংশ্লিষ্টদের মুখেও হাসি ফুটেছে। তারা চাইছেন, সিনেমা মুক্তি ও দর্শকদের হলে ফেরার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে। তবে ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে রায়হান রাফির ‘পরাণ’।

শরিফুল রাজ, বিদ্যা সিনহা মিম ও ইয়াশ রোহান অভিনীত এই সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহ শেষ না হতেই বেড়েছে প্রদর্শনীসংখ্যা। বিশেষ করে হলমালিকদের আগ্রহ দেখা গেছে পরাণ নিয়ে।ঈদের চতুর্থ দিন থেকেই বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স ছবিটির প্রদর্শনীসংখ্যা বাড়িয়েছে। রেকর্ড ২০টি করে শো প্রদর্শিত হয়েছে। যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাসে মাত্র একটি শো ছিল ছবিটির।

সেখানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারটিতে। লায়ন সিনেমাসে যোগ হয়েছিল নতুন চারটি শো। ঢাকার পর সারাদেশের জেলা শহরের হলের দিকে মনোযোগ ছিলো ‘পরাণ’ পরিচালক রায়হান রাফির।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৯ জুলাই ২৩টি হলে মুক্তি পায় মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ সিনেমা। ‘পরাণ’র সাফল্যের পর ব্যাক টু ব্যাক ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এটি। সিনেমাটির মুক্তির আগেই ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানটি দিয়ে দর্শকদের মনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলো। গানটি প্রকাশ্যে আসতেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। মুক্তির আগেই সিনেমাটির টিকেট কেনায় যেন ধুম লেগে যায়। মুক্তির পর সিনেমাটি বিশাল সাফল্য লাভ করে।

২৩ সেপ্টেম্বর র‌্যাব প্রযোজিত তারকাবহুল সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ৩৫টি হলে মুক্তি পেয়েছিল। সিয়াম, রোশান, নুসরাত ফারিয়া ও তাসকিন অভিনীত সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছে। যা প্রযোজক ও পরিচালকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। যারা এত দিন সিনেমা মুক্তি দিতে ভয় পাচ্ছিলেন, তারা নড়ে চড়ে বসেছেন।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন পরিচালক তাদের ছবির মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই-ই নয়, দ্রুত শুটিং শেষ করে সেন্সর বোর্ডে ছবি জমা দিচ্ছেন কোনো কোনো পরিচালক। নতুন পরিচালকেরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বড় পর্দার চ্যালেঞ্জ নিতে।

পরাণ ও হাওয়ার সাফল্যে ছোটপর্দার সাগর জাহান, কাজল আরেফিনসহ বেশ কয়েকজন সিনেমা তৈরির ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। তবে এরমধ্যে মুক্তি অনেক সিনেমায় সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেমন- আগামীকাল, বীরত্ব, আশীর্বাদ,লাইভ, যাও পাখি বলো তারে, বিউটি সাকার্স, হৃদিতা সেই তালিকা থেকে বাদ যায়নি।

২৮ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত তারকাবহুল ‘দামাল’। যেখানে অভিনয় করেছেন ‘পরাণ’র হিট জুটি শরিফুল রাজ ও বিদ্যা সিনহা মিম। এছাড়াও অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, রাশেদ অপুসহ অনেকে।

ট্রেলার ও গান প্রকাশের মাধ্যমে এরইমধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছে ‘দামাল’। সিনেমাপ্রেমীরা জানাচ্ছেন, তাদের আগ্রহ বেশি ‘দামাল’-এ। তাদের ব্যাখ্যা- নির্মাতা হিসেবে রাফী এরইমধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তাই তার নির্মিত ছবিতে আগ্রহ বেশি।

এর আগে তিনি বড়পর্দায় ‘পোড়ামন ২’ এবং ‘পরাণ’ দিয়ে বাজিমাত করেছেন। পাশাপাশি টিম ‘দামাল’ এরইমধ্যেই ভিন্নধর্মী প্রচারণায় নেমে পড়েছে। যা দেখে সিনেমাপ্রেমীরা ছবির প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আরো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে- বসন্ত বিকেল, রোহিঙ্গাসহ আরো অনেকগুলো সিনেমা।

চলচ্চিত্রে এমন সাফল্যে সবাই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্রে সংশ্লিষ্টরা সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে বলছেন। একই সঙ্গে দেশে সিনেপ্লেক্সের সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষেও কথা বলছেন তারা। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সিনেমার এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে অবশ্যই ভালো মানের সিনেমা বেশি বেশি নির্মাণ করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ