শিরোনাম:
চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ছয় হাজার ৫০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি অবশেষে সিনেমার নায়ক হচ্ছেন আফরান নিশো সহযোগিতা চেয়ে ন্যাটো সদস্যদের প্রতি আহ্বান ইউক্রেনের আফগানিস্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলায় নিহত ১৫ আহত ২০ নাটোর জেলায় দুই কোটি ৪৫ লাখ ৪১ হাজার টাকার প্রণোদনা পাচ্ছেন ৪৪ হাজার কৃষক ঢাবি শিক্ষকদেরর গবেষণা ভাতাসহ অন্যান্য বাতিলকৃত সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের দাবি ইরানকে হারিয়ে শেষ ষোলতে যাওয়ার টিকিট পেল যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখসারির যোদ্ধা, ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং গর্ভবতীদের টিকার চতুর্থ ডোজ দেয়ার সুপারিশ তিন মাস অপেক্ষার পর আইন মন্ত্রণালয়ের সাড়া পেল ইসি নতুন করে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছে ব্রাজিল
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

প্রকৃতির অবারিত দানে চিরসবুজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিনিধির / ৩০ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২
প্রকৃতির অবারিত দানে চিরসবুজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকৃতির অবারিত দানে চিরসবুজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

প্রকৃতির অবারিত দানে চিরসবুজ এক অনন্য বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। পাহাড়ে ঘেরা ক্যাম্পাস, ঝর্ণা এমনকি গিরিপথ- কি নেই এই ক্যাম্পাসে?

এটি যেন ফরাসি চিন্তাবিদ রুশোর চিন্তার সেই বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে শহর থেকে দূরে, গ্রামীণ পরিবেশে। যাতে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতি থেকে শিখতে পারে। সেই চিন্তাকে ধারণ করে প্রকৃতি যেন তার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে ঢেলে সাজিয়েছে এই ক্যাম্পাসকে।দোয়েল, কোকিল, চড়ুই, শালিকের মন ভুলানো কিচিরমিচির শব্দ! বাহারি ফুলের গাছ! আঁকাবাকা পথের দুপাশে জারুল, তমাল, হিজলের সারি!

গাছের সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে মাথার উপর পড়ছে রোদ। পাহাড়ের গাঁ বেয়ে নেমে আসছে শীতল পানি, যা বয়ে চলছে ছড়া দিয়ে। ছড়ার পানি দিয়ে হাঁটতে গিয়ে মাঝে মাঝে কোমর পানিতে যখন ডুবে যায়, তখন মনে হয় এই বুঝি পা পড়লো সাপের গায়ে!পাহাড় বেয়ে কাঠ নিয়ে নেমে আসছে কাঠুরিয়া। ছড়ার দু‍‍`পাশেই পাহাড়ের গায়ে হরেকরকমের আবাদ করে রেখেছে কৃষক। সবজি সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক পরিবার। কলা অনুষদের ঝুপড়ির পেছনে পথ ধরে সেই ছুটে চলা শেষ হয় না। ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর ছড়ার বামে একটি সরু রাস্তা।

হঠাৎই হিমেল হাওয়ার পরশে গাঁ চমকে উঠে। স্বচ্ছ পানির স্রোতের সাথে শীতল বাতাস! দু‍‍`টি পাহাড়ের মাঝ দিয়ে চলে গেছে সরু পথ। শেওলা ধরা দুই পাহাড়ের গায়ে হাত-পা দিয়ে ক্রমেই এগিয়ে যেতে হয়।দুই পাহাড়ের উপরের ফাঁক দিয়ে সূয্যিমামা উঁকি দিলে মনটা ভরে উঠে। পাহাড়ের গায়ে যেন কারুকাজ করা তবে যত্নের অভাবে শেওলা ধরে আছে। নির্জন হলেও পাখির কলকাকলিতে নিজেকে একাকি মনে হয়না।

প্রায় আধ কিলোমিটারের এই গিরিপথে ক্রমেই বাড়তে থাকে ঝুঁকির প্রবণতা। একটু ভেতরে গেলেই পানি কোমরে উঠে যায়। সামান্য অসাবধানতায় পাথরে আঘাত পাওয়ার তীব্র সম্ভাবনা আছে। দুই পাহাড়ে হাত-পা দিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা দুঃসাধ্য মনে হতে পারে। তবে থেমে না গিয়ে সতর্কতার সাথে পথ চলতে হবে।

বলছিলাম ২০১১ সালে আবিষ্কৃত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চালন্দা গিরিপথের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য পিয়াসী কিছু দুঃসাহসী শিক্ষার্থীর হাত ধরে এই দুর্গম গিরিপথের আবিষ্কার।

১১ বন্ধু মিলে ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মিল রেখে এই গিরিপথের নাম দেন ‍‍`চালন্দা গিরিপথ‍‍`। অনন্যতার নির্দশন হিসেবে পরিচিত এই গিরিপথ সৌন্দর্যের তৃষ্ণা নিবারনে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী একবার হলেও ঘুরে আসেন এই গিরিপথ। স্মৃতির পাতায় যুক্ত হয় এক অনন্য অনুভূতি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ