বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০৪ অপরাহ্ন

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেড় ডজন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

প্রতিনিধির / ৩২ বার
আপডেট : শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২২
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেড় ডজন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেড় ডজন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। প্রতি বছর এ সময়টাতে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কম থাকে। তবে এবার শীতকালীন সবজি বাজারে ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো বাজারে ৬০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের অন্য সবজিতেও তেমন একটা স্বস্তি দেখা যায়নি ক্রেতাদের জন্য। কিছু সবজির দাম স্বাভাবিক থাকলেও কিছু সবজির দাম বাড়তি দেখা গেছে। বাজারে প্রতি কেজি পটোল ৫০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা, ধনিয়াপাতা ১০০ টাকা, আলু ২৮-৩০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, উচ্ছে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা ও চিচিঙ্গা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি আঁটি লাল শাক ও পালং শাক ১৫-২৫ টাকা করে ও প্রতি পিস লাউ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এক মাস আগে দেশি পিয়াজের কেজি ছিল ৪০-৪৫ টাকা। বর্তমানে ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দেড় ডজন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে কখনো প্রধান খাদ্যশস্য চাল, আটা, ভোজ্য তেল, কখনো চিনি, লবণসহ অন্য পণ্য। গেল এক সপ্তাহে সব ধরনের চাল কেজিতে দুই-এক টাকা করে বেড়েছে। একইসঙ্গে আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। এ ছাড়া বেড়েছে মসুর ডাল ও ছোলা। এভাবে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ার কারণে নাজেহাল ভোক্তা। অনেকেই পণ্য কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। দাম বাড়ার তালিকায় অন্য পণ্যগুলো হলো- ডাল, ময়দা, আদা, রসুন, শুকনা মরিচ, হলুদ, ছোলা, ধনিয়া, জিরা ও লবঙ্গ। আর এসব পণ্য কিনতে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে।

বিজ্ঞাপন
টিসিবি তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম ২.২৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি কেজিপ্রতি লবণের দাম বেড়েছে ২.৭৪ শতাংশ। এ ছাড়া প্রতি কেজি মসুর ডাল ৪.২৬ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। কেজিতে আটার দাম বেড়েছে ৬.০৯ শতাংশ, ময়দা ৭.৪৮ শতাংশ, ভোজ্য তেল সর্বোচ্চ ৭.৫৫ শতাংশ, আদা সর্বোচ্চ ১৯.৫৭ শতাংশ, রসুন ৩.০৩ শতাংশ, শুকনা মরিচ ২.৭৪ শতাংশ, হলুদ ২.১৭ শতাংশ, ছোলা ৩.১৩ শতাংশ, ধনিয়া ৭.৬৯ শতাংশ, জিরা ৫ শতাংশ এবং প্রতি কেজি লবঙ্গ ২.০৬ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ১১৫-১২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ছোট দানার প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে ১৩০ টাকা ছিল। এ ছাড়া মাঝারি দানার প্রতি কেজি মসুর ডাল ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগে ১২০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৩ টাকায়, যা আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৬ টাকায়।

প্রতি কেজি প্যাকেটজাত ময়দা ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগে ৭৫ টাকা ছিল। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৭৫ টাকায়, যা আগে ছিল ১৭০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ১৮৫ টাকায়, যা আগে ১৮০ টাকা ছিল। এ ছাড়া ১০ টাকা বেড়ে প্রতি লিটার পাম অয়েল সুপার বিক্রি হয়েছে ১৪৫ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি দেশি আদা ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সাত দিন আগেও ২৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা আদা বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়, যা আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা, যা সাত দিন আগে ৯০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি দেশি শুকনা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি দেশি হলুদ ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সাত দিন আগে ২৩০-২৪০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি ধনিয়া বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা, যা আগে ১৪০ টাকা ছিল।

প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ওদিকে বাজারে দেখা দিয়েছে সয়াবিন তেলের সংকট। গত ১লা নভেম্বর সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। এরপরই বাজারে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। সরজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোজ্য তেলের সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম।

বাজারে একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। কোথাও রূপচাঁদার ২ লিটারের তেলের বোতল ৩৬০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে, আবার কোথাও একই তেল ৩৮৪ টাকা। একই পরিমাণ তেল বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের দাম ৪১০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে। তীর ব্র্যান্ডের এক লিটার বোতলজাত তেল ১৭৮ টাকা আবার কোথাও একই তেল ১৯২ টাকাও লেখা বোতলের গায়ে। কাওরান বাজারে খুচরা পর্যায়েও মোটা চাল কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বেড়েছে। মোটা চালের মধ্যে পাইজামের কেজি ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা এবং গুটিস্বর্ণা জাতের চাল ৫০ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাঝারি চালের মধ্যে বিআর-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায়, মিনিকেট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকায়। আর নাজিরশাইলের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এদিকে গত এক সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে খোলা আটা কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। খোলা ও প্যাকেটজাত উভয় ধরনের আটা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। আর ময়দা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি কম হচ্ছে। এ কারণে মিলাররা চালের দাম বাড়াচ্ছে। গত এক সপ্তাহে মিলগেটে চালের বস্তায় (৫০ কেজি) ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে।

চাহিদা মতো চাল দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিদিন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পেলে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। বিভিন্ন কারণ ও অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে। এতে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত অসহায় হয়ে পড়ছেন। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে সংশ্লিষ্টদের জোরালো ভূমিকা দরকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ