সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

বরিশাল বিএম কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হলের দুরাবস্থা ,৭ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীর জীবনের ঝুঁকি

প্রতিনিধির / ২০ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২
বরিশাল বিএম কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হলের দুরাবস্থা ,৭ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীর জীবনের ঝুঁকি
বরিশাল বিএম কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হলের দুরাবস্থা ,৭ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীর জীবনের ঝুঁকি

বরিশাল বিএম কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার হলের দুরাবস্থা। অর্ধশত বছরের পুরনো ওই ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৭ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, প্রায়ই সিলিং ও পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হয় শিক্ষার্থীরা। হলটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন হল সুপার।পুরনো হলটি ভেঙে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ।

অশ্বিনী কুমার দত্ত্ব ছাত্রাবাসটি (ডিগ্রী হল) ‘এ’ এবং ‘বি’ ব্লকে বিভক্ত তিনতলা বিশিষ্ট দুটি ভবন। ভবনের দেয়াল এবং সিলিংয়ে অধিকাংশ পলেস্তারা খসে পড়েছে। সিলিং ধসে ধসে ছাদের পুরনো মরচে ধরা রড বেড়িয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বিছানায়, পড়ার টেবিলে। ভবনটির দরজা-জানালাও নাজুক। ভেতরে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। বাথরুম-টয়লেটওলোতে দরজা নেই এবং নোংরা দুর্গন্ধ।
গত রবিবার দুপুরে ওই হলের বাসিন্দা বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওসমান গনি জানান, সকালে কক্ষের সামনে বারান্দায় চেয়ারে বসে পড়ছিলেন। হঠাৎ সিলিংয়ে অংশবিশেষ খসে পাশে পড়ে। এতে অল্পের জন্য বেঁচে যান।আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী পদার্থ বিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত ছাত্রাবাসের ‘এ’ ব্লকে প্রায় সাড়ে ৩ শ’ ছাত্র বসবাস করে। প্রতিনিয়ত সিলিং এবং ছাদের অংশ বিশেষ খসে পড়ছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। হলটি ভেঙে পড়লে মৃত্যুর মিছিল হতে পারে।

অশ্বিনী কুমার দত্ত্ব ছাত্রাবাসের সুপারিনটেনডেন্ট অধ্যাপক মো. শাহে আলম হাওলাদার বলেন, ছাত্রাবাসটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। হলের ছাদ, পলেস্তারা খসে পড়ে বহু হতাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে পুরনো ওই হলে বসবাস করছে। বিষয়টি একাধিকবার কলেজ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

ছাত্রাবাসটির দুরাবস্থার কথা স্বীকার করেছেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়াও। তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে একাধিকবার হলটি সংস্কার করেছে। ছাত্রদের নিরাপদ আবাসনের জন্য সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের একটি বিশেষজ্ঞ দল হলটি সরেজমিন পরিদর্শন করবে। যেখানে যেভাবে সংস্কার প্রয়োজন সেভাবেই হল সংস্কার করা হবে। নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ