রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

দেশে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রসারিত হচ্ছে

প্রতিনিধির / ২৫ বার
আপডেট : বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২
দেশে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রসারিত হচ্ছে
দেশে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রসারিত হচ্ছে

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ২০২১ সালে দেশের মোট হোটেল ও রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৬ হাজার। যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরের জরিপে ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে এই খাতের সম্প্রসারণ হয়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি। এবারের জরিপের ফলাফল অনুযায়ী হোটেল ও রেস্টুরেন্টে নিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ২০ লাখ ৭২ হাজার। আগের জরিপে ছিল ৯ লাখ ৪ হাজার। অর্থাৎ এই খাতে দ্বিগুণেরও বেশি কর্মসংস্থান বেড়েছে। তবে করোনাকালীন সময়ে দেশে হোটেল-রেস্টুরেন্টে কী ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টি উঠে আসেনি। এ বিষয়ে বিবিএস কর্মকর্তারা জানান, সামগ্রিক অর্থনীতিতে হোটেল-রেস্টুরেন্টের অবদান জানতে জরিপটি করা হয়েছে। আগের প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। করোনার সময় অনেক হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেলেও পরবর্তীকালে আবার চালু হয়েছে।

দেশে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রসারিত হচ্ছে। এই খাতে কর্মসংস্থান যেমন বাড়ছে, তেমনি জাতীয় আয়ে অবদানও বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে দেখা যায়, গত এক দশকে হোটেল-রেস্টুরেন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি। সেইসঙ্গে এই খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। সম্প্রতি ‘হোটেল ও রেস্টুরেন্ট জরিপ-২০২১’-এর ফলাফল প্রকাশ করেছে বিবিএস। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) হোটেল ও রেস্টুরেস্ট উপখাতের অবদান জানাতে এই জরিপটি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এই খাতে কর্মসংস্থান, মজুরি ও বেতন, পরিচালন ব্যয়, সম্পদসহ বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএস কর্মকর্তারা জানান, দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা (এনএসও) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে এই জরিপটি করেছে। মূলত ২০১৩ সালে এ-সংক্রান্ত শুমারির তথ্য এবং ৫০০ নমুনা এলাকায় হালনাগাদকৃত তালিকা ব্যবহার করে ৬ হাজার ৪০৪টি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, ২০২১ সালে দেশে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত ২০ লাখ ৭২ হাজার ব্যক্তির মধ্যে বেতনভোগী কর্মী ১২ লাখ ৮১ হাজার জন। অবশিষ্ট ৭ লাখ ৯০ হাজার রয়েছেন মালিক, অংশীদার বা অবৈতনিক শ্রমিক। প্রতিটি হোটেল বা রেস্টুরেন্টে গড়ে ৪ দশমিক ৭৫ জন ব্যক্তি নিয়োজিত রয়েছেন। জরিপে চার ধরনের মালিকানা অনুসরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

২০২১ সালে দেশে বেসরকারি মালিকানাধীন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৫ হাজার, যা আগের জরিপে ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার। এবার সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে ৮৫২টি; যা আগের জরিপে ছিল ৬৩৯টি। অর্থাৎ সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রসার হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানানা, দেশে অভ্যন্তরীণ পর্যটন বৃদ্ধিও এই খাত সম্প্রসারণে অবদান রাখছে। তাছাড়া ঘরের বাইরে খাবার এবং অনলাইন ভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রেস্টুরেন্টের খাবার। দেশের জিডিপিতে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠানের অবদান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই খাতে স্থূল মূল্য সংযোজন ছিল ১১ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। এবারের মূল্য সংযোগ পাওয়া গেছে ৩৮ হাজার ৭০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে জিডিপিতে অবদান প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী দেশে ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে হোটেল রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৮১টি। ২০০২-০৩ অর্থবছর ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ১০৩টি, ২০০৯-১০ অর্থবছর ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৪টি, ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৪টি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ