শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

মশার আক্রমণে চট্টগ্রাম মহানগরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ

প্রতিনিধির / ১৮ বার
আপডেট : বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২
মশার আক্রমণে চট্টগ্রাম মহানগরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ
মশার আক্রমণে চট্টগ্রাম মহানগরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ

ঝাঁকে ঝাঁকে মশার আক্রমণে চট্টগ্রাম মহানগরবাসীর জীবন এখন অতিষ্ঠ। পরিস্থিতি যেন গত বছরের চেয়েও এবার আরো খারাপ। রাতভর মশার আক্রমণ ঠেকাতে নানা রকম স্প্রে ছিটিয়ে, মশার কয়েল জ্বালিয়ে, মশারি টাঙিয়েও নিস্তার মিলছে না কারো। গত নভেম্বর মাস এই যন্ত্রণায় কাটিয়ে চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যভাগে এসেও নগরবাসীর নিস্তার মিলছে না। উপরন্তু মশার আক্রমণ বাসাবাড়ি, দোকানপাট, অফিস-আদালত সর্বত্র দিনেরাতে তীব্রতর হয়েছে। মহানগরী ও আশপাশে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে সমান তালে। 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কর্মকর্তা মশার বিস্তারের জন্য আবারও দায়ী করলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) তত্ত্বাবধানে নগরীতে চলমান খাল পুনরুদ্ধার ও নালা সংস্কার প্রকল্পের বিভিন্ন খালে বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা পানিকে। অন্যদিকে চউক খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কর্মকর্তা এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, কোনো খালেই বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন দালানকোঠার ছাদে, বেসমেন্টে, বাগানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা জন্ম নিচ্ছে। তারই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নগরীর বাড়িঘরের আশপাশের খাল, নালা, আবর্জনার গর্তের ময়লা পানিতে বিপুল পরিমাণে নানা ধরনের মশার উর্বর প্রজননক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় সেসব থেকেও নগরীতে মশার ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এডিস মশার কামড়ে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু রোগের বিস্তার এখনো অব্যাহত। মহানগরীসহ পুরো জেলায় গত জানুয়ারি মাস থেকে চলতি ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত গত প্রায় সাড়ে ১১ মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ২০২ জন। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ৮৩ জন রোগী মহানগরীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত প্রায় সাড়ে ১১ মাসে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৪৯ জন এবং চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫৩ জন। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উপজেলা, গ্রামগঞ্জের তুলনায় দালানকোঠাবেষ্টিত চট্টগ্রাম মহানগরীতে তিনগুণ বেশি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপসচিব মো. আবুল হাশেম ইত্তেফাককে বলেন, নগরীতে দুই কারণে মশার বিস্তার বেড়েছে। প্রথম কারণটি হচ্ছে আবহাওয়াগত। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজের জন্য অসংখ্য স্থানে বাঁধ তৈরি করায় সেসব বাঁধে আটকে পড়া পানি পচে মশার প্রজনন ঘটাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। তিনি বলেন, নগরীতে চসিকের মশা নির্মূলে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম প্রতিদিন দুই/তিনটি ওয়ার্ডে চলছে। সেই সঙ্গে হাসপাতাল, সিআরবি, নানা সামাজিক কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ সাত/আটটি স্থানে প্রতিদিন মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া নগরীর ১২টি ব্লকের মধ্যে চিহ্নিত ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটাতে সাত দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হচ্ছে। সাত দিন পর আবারও সেই ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর কাজ শুরু করা হচ্ছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে শিগিগরই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, চসিকের মশানিধন কার্যক্রমে বর্তমানে বড় মশা মারার ওষুধ এডাল্টিসাইডের সাময়িক ঘাটতি দেখা দেওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার লিটার সংগ্রহ করা হয়েছে। বাদবাকি ওষুধ ১০/১২ দিনের মধ্যে এসে যাবে। অন্যদিকে চসিকের হাতে নর্দমায় মশার ডিম ধ্বংসের ওষুধ লার্ভিসাইড পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় তা প্রতিদিনই ছিটানো হচ্ছে। তার মতে নগরীর ৪, ৬, ৮, ১৪, ১৭, ১৮, ১৯, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় চউকের খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বাঁধ থাকায় সেখানে ব্যাপকভাবে মশা উৎপাদন হচ্ছে।

চউকের খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ৩৪, ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল শাহ আলী ইত্তেফাককে বলেন, প্রকল্পের সব খালেই পানি প্রবাহ অব্যাহত আছে। যেসব অংশে কাজ হচ্ছে, সেখানে খালের অর্ধেক অংশে কাজ অব্যাহত রেখে বাকি অর্ধেক অংশ দিয়ে খালের পানি প্রবাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। কাজেই প্রকল্পের খালসমূহে আবদ্ধ পানিও নেই, তাতে মশার প্রজননস্থলও নেই। তবে সিটি করপোরেশনের মটিভেশনাল কার্যক্রম না থাকায় জনগণ তাদের আবাসিকস্থল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে দৈনন্দিন-বর্জ্য, পলিথিন এবং ককশিট খাল ও নালা-নর্দমায় ফেলছে। এই তৎপরতা বন্ধ করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তারা এসব বন্ধ করতে না পারলে খাল পুনরুদ্ধার ও নালা খনন প্রকল্পের কাজ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ