শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক কনটেইনার হ্যান্ডলিং শতকরা দুই ভাগ কমে যাবে

প্রতিনিধির / ১৬ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক কনটেইনার হ্যান্ডলিং শতকরা দুই ভাগ কমে যাবে
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক কনটেইনার হ্যান্ডলিং শতকরা দুই ভাগ কমে যাবে

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ লাখ ৩ হাজার ১১৬টি। বিগত ২০২১ সালের একই সময় অর্থাৎ নভেম্বর পর্যন্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৯ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৭টি। বর্তমান বছরের প্রতি মাসে গড়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দেখলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ আরো আড়াই লাখ কনটেইনার ডিসেম্বর মাসে হ্যান্ডলিং হলেও পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে লক্ষাধিক কনটেইনার কম হ্যান্ডলিং হবে।

অন্য দিকে বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৫ লাখ ৭৮৭ কোটি টন। অন্য দিকে গত বছরে অর্থাৎ ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছিল ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৬৫ হাজার টন। চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর যেখানে খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছিল ১ লাখ টন। এবার তা বছর শেষে ২০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক কনটেইনার হ্যান্ডলিং শতকরা প্রায় দুই ভাগ কমে যাবে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং কমে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বিগত বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়ে চললেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা টালমাটাল। যার ফলে ডলার-সংকট দেশের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করে। দেশের প্রধান বৈদেশিক আয় খাত রেমিট্যান্স প্রভাব কমে যাওয়া এবং রপ্তানিও ভালো অবস্থায় না থাকায় রিজার্ভ কমতে থাকে। রিজার্ভের পতন ঠেকাতে সরকার বিলাস পণ্যসহ অতি জরুরি নয় এমন সব পণ্যের ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে গত কয়েক মাসে দেশে আমদানি অনেক কমে যায়। বিশেষ করে কনটেইনারবাহী পণ্যের আমদানি ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় হ্যান্ডলিং পরিমাণও স্বাভাবিক নিয়মে কমে যায়। বিগত বছর যেখানে চট্টগ্রাম বন্দর ৩২ লক্ষাধিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হয়েছে। এ বছর তা ৩২ লাখের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আশার কথা হলো, দেশে ব্যাপক হারে বাল্ক কার্গো বা খোলা পণ্য আমদানি পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক গড় হ্যান্ডলিং এগিয়ে গেছে। খাদ্যশস্য, পাথর ও কয়লা আমদানি অনেক বেশি হয়েছে। তাতে করে বন্দরের জেটি এবং বহির্নোঙরে বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিং অনেক বেড়েছে।

দেশে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়ে যাওয়ায় দেশে জাহাজ সংখ্যাও বেড়ে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এসেছে ৩ হাজার ৯৯৩টি। গত বছর একই সময় পর্যন্ত জাহাজ এসেছিল ৩ হাজার ৮৪২টি জাহাজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ