মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

জাল নোট প্রতিরোধে আইন,যাবজ্জীবন-কোটি টাকা দণ্ড

প্রতিনিধির / ৩১ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২
জাল নোট প্রতিরোধে আইন,যাবজ্জীবন-কোটি টাকা দণ্ড
জাল নোট প্রতিরোধে আইন,যাবজ্জীবন-কোটি টাকা দণ্ড

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকার জরিমানা বিধান রেখে জাল নোট প্রতিরোধে আইন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আইনের নাম হবে ‘জালনোট প্রতিরোধ আইন-২০২২’।আইনের খসড়া অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয়, মন্ত্রী পরিষদ ও আইনমন্ত্রণালয় হয়ে সংসদে যাবে। ষেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইনে পরিণত হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডিপোর্টমেন্ট অব অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট’ জালনোট প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও জাল টাকা শনাক্ত ও রোধে নিজস্ব কোনো আইন নেই। এতদিন প্যানেল কোড ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে জাল নোট রোধ ও শনাক্ত সম্পর্কিত কাজ চলছে। এ সব আইনে জাল নোট সম্পর্কিত মামলা শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এতে জাল নোট নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই নতুন আইন তৈরির উদ্যোগ নওয়া হয়েছে।বিষয়টি অর্থমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাল নোট বড় ধরনের অপরাধ। যার মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বছর জুড়ে অপরাধী চক্র জাল নোট তৈরি ও বিপণনের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন করলেও ঈদের সময় এর তীব্রতা বেড়ে যায়। এ সময় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। জাল নোট রোধে বাংলাদেশ ব্যাংককে মাঠে নামতে হয়। বড় ধরনের হাটবাজারগুলোতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ধরনের কাজ দেশে বছরের পর ধরে চলে আসছে। আইনের সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতার কারণে এক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হচ্ছে। এ সব বাধা দূর করতে আইন তৈরি উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খসড়া আইনে জাল নোট ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রি, মজুদ বা আসল বলে লেনদেন করলেই সে আইনের আওতায় অপরাধী বলে গণ্য হবেন। জানার পরও মুদ্রা জাল করার প্রক্রিয়ার যে কোনো অংশের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই সে অপরাধী হবে। মুদ্রা জাল কাজে ব্যবহার করার জন্য কোনো যন্ত্র, হাতিয়ার, উপাদান বা সামগ্রী প্রস্তুত করা বা প্রক্রিয়ার কোনো অংশ সম্পাদন করা, ক্রয়-বিক্রি বা ব্যবহার, আমদানি-রপ্তানি বা বহন করাও আইনের আওতায় পড়বে। মুদ্রা জাল করার তথ্য আদান-প্রদানও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আসল নোটকে জাল বলে বা জাল নোটকে আসল বলে বা মুদ্রা নিয়ে যে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানোও ‘জালনোট প্রতিরোধ আইন-২০২২’ আওতায় অপরাধ বলে গণ্য হবে। জাল টাকা নিয়ে গণমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্তকারীও আইনের আওতায় আসবে। ব্যবস্থা নিতে পারবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। প্রকৃত মুদ্রা ঘষে-মেজে বিকৃত করাও এ আইনের আওতায় অপরাধ হবে। জেনে-বুঝে টাকার ভিন্নভাবে ব্যবহার বা লেনদেন করলেও ওই ব্যক্তি আইনের আওতায় আসবে। টাকার উপরে লেখা, টাকায় ব্যবহৃত প্রতিকৃতি বিকৃত করাও অপরাধ বলে গণ্য হবে।জাল মুদ্রা তৈরি, মজুদ, বিপণৈন, পরিবহন করা হচ্ছে বলে তথ্য থাকলে বা মনে হলে কোনো পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি বা গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এ আইনে।

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা জাল নোট প্রতিরোধ কল্পে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রবিন্ধকতা তৈরি করে। বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্তের ক্ষেত্রে তিন মাস সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। তবে যৌক্তিক কারণ থাকলে আরও একমাস বাড়তে পারে। তদন্তে দেরি কারণে যাতে কোনো অপরাধী পার না পেয়ে যায় এবং মামলা উদ্দেশ্য জাল নোট প্রত্যায়ন করার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থাকবে। যাতে নোট ছাপানো, বিপণন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। এবং মামলা অযথা প্রলম্বিত না হয়।

জাল নোট রোধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জাল নোট-অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের দ্বিগুণ বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান থাকছে এ আইনে। অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়াতে।জাল নোট প্রতিরোধে নিজস্ব আইন প্রণয়নের উদ্যোগ প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অপরাধ হয় এবং প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। সিভিল ল বা অন্য যে কোন আইনেও পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে। এতদিন সেভাবেই চলে আসছে।বিশেষ কোনো দিক থাকতে পারে যা প্রচলিত আইনে কাভার হচ্ছে না। সে কারণে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক করতে পারে, তিনি বলেন।তবে এ আইনের বাস্তবায়ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে করতে হবে। এ জন্য ক্ষমতায়িতও করা দরকার প্রয়োজন মতো উল্লেখ করে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের এ চেয়ারম্যান বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকও ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের বক্তব্য আসতে পারে। আইনে এমন বিষয় থাকতে পারে।খসড়া আইনে দেখা গেছে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় তথ্য সরবারহ ও মুদ্রার সনাক্তকারী প্রিতিষ্ঠান হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে যুক্ত করা হয়েছে।

জাল মুদ্রা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কমপক্ষে একজন নির্বাহী পরিচালকের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটি’গঠন করতে পারবে। কমিটি গঠন ও কার্যাবলি প্রবিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।টাকা সম্পর্কিত একটি তথ্য ভান্ডর করার ব্যাপারে নেতৃত্বে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। যেখানে টাকা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য থাকবে। তদন্তে ও বিচারিক কার্যক্রমে এ ভাণ্ডার সহায়তা করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ