শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

স্কালোনির মতো হেড-মাস্টারকেই চায় আর্জেন্টিনা

প্রতিনিধির / ২১ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২২
স্কালোনির মতো হেড-মাস্টারকেই চায় আর্জেন্টিনা
স্কালোনির মতো হেড-মাস্টারকেই চায় আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দুই বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। স্কালোনি যদি ট্রফি জয় করতে পারেন তাহলে তিনি হবে আর্জেন্টিনার গ্রেট কোচদের একজন। যেমনটা আছেন সিজার লুইস মেনত্তি এবং কার্লোস বিলার্দো। আগামী রবিবার দেখা যাবে হেড মাস্টার স্কালোনি কি পারবেন ঐ দুজনের পাশে নিজের নামটা লিখে নিতে।

মেসি মেসি করে জীবনটা দিয়ে ফেলছেন সবাই। মেসিদের হেডমাস্টারের কথাটা কি একবারও বলা যায় না? মেসি কীভাবে এত উজ্জীবিত ফুটবল খেলছেন তা কি একবারও জানা যায় না? বিশ্বকাপ ফুটবল কাতারে মেসিদের কোচ লিওনেল স্কালোনি এখন সবার আলোচনায়। যার ওপর আস্থাই ছিল না, সেই কোচই এখন সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। একটা দলকে কীভাবে চাপা পড়া অবস্থা থেকে পাড়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার প্রমাণটা দিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে। ট্রফিটা জয় করবে আর্জেন্টিনা সেই স্বপ্নটা এখন আর দূরে নয়। স্কালোনি ট্রফি এনে দিতে পারেন তা বিশ্বাস করছেন আর্জেন্টাইনরা।

তবে একটা সময় স্কালোনির মতো কোচ কেন মেসিদের হেডমাস্টার হবে তা নিয়ে কম কথা হয়নি। অনেকেই বলেছেন, বড় বড় কোচ পারেনি, স্কালোনি কোথাকার কোন কোচ যে আর্জেন্টিনাকে ট্রফি এনে দেবেন। রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্যর্থতা এখনো আর্জেন্টাইনদের বুকে জ্বালা ধরায়। স্কালোনি বলছিলেন, গ্রুপের খেলায় সৌদি আরবের কাছে হেরে যাওয়ার পর আমাদের সমর্থকরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সাত বার ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার মেসি আছেন দলে। কিন্তু সেটিই যেন বড় হয়ে না উঠে। তাই স্কালোনি চেয়েছিলেন মেসি, ডি মারিয়া, পল, ওতামেন্ডি, মার্টিনেজ যে-ই হোক, কেউ যেন নিজেকে আলাদা মনে না করেন। স্কালোনি দলের সব খেলোয়াড়কে একসঙ্গে রাখার চেষ্টাই করেছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর তার লক্ষ্যই ছিল দলের মধ্যে যেসব ভেদাভেদ রয়েছে তা মুছে ফেলতে হবে।

রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে দলের কোন্দলের কথা সবাই জেনেছিল। পুরো দুনিয়া জেনে গিয়েছিল মেসিদের ঘরে আগুন জ্বলছে। বিশ্বকাপে গিয়ে যদি আগুনের তাপে পুড়তে হয় তাহলে আর বিশ্বকাপ খেলা হবে না। স্কালোনি খুঁজে বের করেছেন কোথা থেকে আগুনে আসছে। কোথায় কোথায় সমস্যা। গভীরে গিয়ে সমস্যার শেকড়ে টান দিয়েছেন। নিজের মতো করে গুছিয়ে নিয়েছেন দলটাকে। যাকে রাখার দরকার তাকে আদর ভালোবাসা দিয়ে রেখেছেন। যাকে বাদ দেওয়ার তাকে দলের স্বার্থেই বাদ দিয়েছেন বলে সবাই বলছেন।

টিম আর্জেন্টিনা গড়তে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। যেসব কোচ বিদায় নিয়েছেন তারাও দেখতে চেয়েছিলেন এত কম বয়সি একটা ছেলের হাতে আর্জেন্টিনাকে তুলে দিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন ভুল পথে গিয়েছে কি না। সেটা সময় হলেই বুঝতে পারবে। স্কালোনি কারো কথায় কান না দিয়ে তার কাজটা করতে লাগলেন। ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দিলেন এই স্কালোনি। কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হলো আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলের ঘরের মাটিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথম সাফল্যটা আসে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে।

 

স্কালোনি দলে অনেক দিন ধরে কাজ করেছেন। কিন্তু সেটি ছিল কোচিং স্টাফ হিসেবে। ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব নেওয়া স্কালোনি কোপা আমেরিকা এনে দিলেন। এখন বিশ্বকাপ ঘরে নিতে চান। জেরারদো মার্টিনো, এদারদো বাউজা, আলেহান্দ্রে সাবেলা, সাম্পাওলি, ব্যর্থ হয়েছেন। সেখানে ৪৪ বছর বয়সি স্কালিনো উড়ছেন বিশ্বকাপে। মেসি, ডি মারিয়া, ওটামেন্ডির মতো সিনিয়রদের সঙ্গে তরুণ ফুটবলার এনজো ফার্নান্দেস, আলভেজদের তারুণ্যনির্ভর ফুটবলটার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এখন ফাইনালে আর্জেন্টিনা। স্কালোনি নিজেকে আলাদা মনে করছেন কি না, সেই প্রশ্ন ছিল সাংবাদ সম্মেলনে। স্কালিনো অতীতের সব কোচের প্রতি সম্মান রেখে বললেন, ‘আমি উনাদের মতো না। উনারা অনেক ওপরের কোচ। তাদের সঙ্গে আমার তুলনা হয় না।’ বিশ্বকাপে আসার আগে ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত ছিল আর্জেন্টিনা। সৌদি আরবের কাছে হেরে সেই রেকর্ড ভেঙে যায় মেসিদের। তার পরই ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন, ফাইনালের তুলে এনেছে আর্জেন্টিনাকে। এতে আবেগে আপ্লুত হচ্ছেন না স্কালোনি। আমি আবেগে ভাসছি না। তবে আর্জেন্টাইনদের মতো আমিও স্বপ্ন দেখি ট্রফি জয় করব।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ