রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপে মেসির যত রেকর্ড

প্রতিনিধির / ১৮ বার
আপডেট : সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২
বিশ্বকাপে মেসির যত রেকর্ড
বিশ্বকাপে মেসির যত রেকর্ড

রেকর্ডের বরপুত্র লিওনেল মেসি মাঠে নামলেই প্রস্তুত থাকে রেকর্ডের খাতা। মহাতারকা এই বুঝি কিছু একটা করে বসলেন, ‘চটজলদি লিখতে হবে।’ আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে নিয়ে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যে আলোচনা সেটি হলো, ‘তিনিই কি সর্বকালের সেরা?’ চ্যাম্পিয়ন মেসিকে নিয়ে এখনো চলছে কথার পিঠে কথা, তর্ক আবারও গড়াবে বহুদূর। সেসব একপাশে রেখে সংখ্যায়-সংখ্যায় পাঁচ বিশ্বকাপে তার কীর্তিগুলো দেখে নেওয়া যাক।

১. বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় শীর্ষে উঠে গেছেন লিওনেল মেসি। সেমিতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ছুঁয়েছিলেন লোথার ম্যাথিউসের ২৫ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। কাতারে শিরোপা নিশ্চিতের রাতে চ্যাম্পিয়ন মেসি খেলেছেন ২৬টি ম্যাচ।

২. বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় খেলার পাশে নিজের নাম লিখতে লিওর প্রয়োজন ছিল ২৪ মিনিট, ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেছেন পুরো ১২০ মিনিট। এতে সর্বোচ্চ সময় মাঠে থাকার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। পাওলো মালদিনির ২,২১৭ মিনিট পেছনে ফেলে ২,৩১৪ মিনিট খেলা মেসি আছেন শীর্ষে।

৩. বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবেও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মেসি। ১৯টি ম্যাচে নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড পরে নেমেছিলেন। তালিকায় দুইয়ে আছেন মেক্সিকোর রাফায়েল মারকুয়েজ (১৭) ও তার স্বদেশি কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা (১৬)।

৪. জার্মানদের সাবেক মিরোস্লাভ ক্লোসার সমান সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ ম্যাচ জিতেছে মেসি। ফাইনাল জেতার মধ্য দিয়ে ছুঁয়ে ফেলেছেন ক্লোসার ১৭ ম্যাচ জয়ের দুর্দান্ত রেকর্ড।

৫. ফিফা বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় যৌথভাবে জাস্ট ফন্টেইনের সঙ্গে চার নম্বরে আছেন মেসি। বৈশ্বিক আসরে সবচেয়ে বেশিবার জাল খুঁজে পেয়েছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬), দুইয়ে ব্রাজিলের রোনাল্ডো (১৫), তিনে গার্ড মুলার (১৪)।

৬. ফাইনালে জোড়া গোল করে পেলের ১২ গোল ছাড়িয়ে জাস্ট ফন্টেইনকে (১৩) ছুঁয়েছেন মেসি।

৭. চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে গ্রুপপর্ব ও নকআউট মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন লিও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো খেলোয়াড়ের এমন কীর্তি নেই।

৮. শুধু গোল করাই নন, মেসি অ্যাসিস্টেও আছেন সেরা অবস্থানে। ১০ বার সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে তালিকায় শীর্ষে কিংবদন্তি পেলে, ৯ অ্যাসিস্টে দুইয়ে এমএল টেন।

৯. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেমন টানা ৫টি বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন, তেমনি অ্যাসিস্টের ক্ষেত্রে রেকর্ডটি মেসির। পাঁচ বিশ্বকাপে সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর যে রেকর্ডটি আর কারো নেই।

১০. লাতিন দেশের হয়ে ছেলেদের ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি মেসির। আর্জেন্টিনা জার্সিতে তার গোল আছে ৯৮টি।

১১. বিশ্বকাপে আকাশী-নীল জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোল করা মেসি নকআউট পর্বের সবকটিতেই পেয়েছেন গোল। শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে জাল খুঁজে পাওয়া খেলোয়াড় হিসেবে তিনিই প্রথম এবং একমাত্র।

১২. কম বয়সে গোল করার তালিকাতেও আছেন মেসি। ১৬ বছর ১৮০ দিনে জালের দেখা পেয়েছিলেন। তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ২০ বছরের আগে ও পরে, ত্রিশের কোঠায় পৌঁছেও জাল খুঁজে পেয়েছেন।

১৩. বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১১টি ম্যাচে সেরার পুরস্কার উঠেছে মেসির হাতে। ৭ ম্যাচে সেরা হয়ে দুইয়ে পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো। যেকোনো টুর্নামেন্টে সেরার তালিকায়ও আছেন মেসি। ওয়েসলি স্নেইডারের রেকর্ড টপকে গেছেন লিও।

১৪. পাঁচ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ছয়জনের ছোট্ট তালিকায় আছেন মেসি। ১৯৬৬ সালের পর কোনো বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার তালিকায় একাই আছেন লিও।

১৫. সাতবার ব্যালন ডিঅর জেতা প্রথম এবং একমাত্র ফুটবলার মেসি। ইউরোপিয়ান ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ৬টি গোল্ডেন বুটও তার দখলে। জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে ৫৬টি হ্যাটট্রিকও তার দখলে আছে।

১৬. বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল বা আসর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দুবার জিতেছেন মেসি। ২০১৪ সালের পর ২০২২ সালেও লিওর হাতে উঠেছে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে পুরস্কারটি চালু হওয়ার পর তিনিই প্রথম যিনি দুবার জিতলেন এই খেতাব।

রবিবার লুসেইল স্টেডিয়ামে শিরোপার মঞ্চে উত্তেজনার পারদ চড়েছিল তুঙ্গে। খেলার ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্স সমতায় ফেরে ৮১ মিনিটে। এমবাপ্পের জোড়া গোল আর্জেন্টিনাকে থমকে দিলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। মেসি ফের লিড আনলে শেষ সময়ে পেনাল্টি থেকে আবারও সমতায় আনে ফ্রান্স। মেসির জোড়া গোল ও এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে শেষ সমাধান আসে টাইব্রেকারে। ৪-২ শট ব্যবধানে মার্টিনেজ নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ