সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:২২ অপরাহ্ন

আন্দামান সাগরে ভাসছে ২০০ রোহিঙ্গা, উদ্ধারের আহ্বান আসিয়ানের

প্রতিনিধির / ১৭ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২
আন্দামান সাগরে ভাসছে ২০০ রোহিঙ্গা, উদ্ধারের আহ্বান আসিয়ানের
আন্দামান সাগরে ভাসছে ২০০ রোহিঙ্গা, উদ্ধারের আহ্বান আসিয়ানের

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি এলাকার সাগরে ভাসতে থাকা নারী ও শিশুসহ প্রায় ২০০ রোহিঙ্গাকে বাঁচাতে ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণপূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান।বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী এই নৌকার যাত্রীদের সবাই দেশটির রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত ছিলেন।

মাঝসাগরে বিপদগ্রস্ত এই রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে মূলত ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী চার দেশ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আসিয়ানের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস অব হিউম্যান রাইটস (এপিএইচআর)। এ প্রসঙ্গে সংস্থার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার একটি বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্ট নিউজের বরাত দিয়ে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর দিকে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে নারী ও শিশুসহ ২০০ রোহিঙ্গাকে নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি; কিন্তু মালাক্কা প্রণালী পার হয়ে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপুঞ্জের কাছাকাছি আসার পর সেটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।

গত তিন সপ্তাহে সেই ইঞ্জিন মেরামত করতে পারেননি নৌকার মাঝি-মাল্লারা। এদিকে টানা ২০ দিন সমুদ্রে ভাসতে থাকা নৌকাটির খাবার ও পানির মজুত শেষ হয়ে গেছে কয়েকদিন আগেই। ক্ষুধা ও পানিশূন্যতায় ইতোমধ্যে কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যুও হয়েছে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রোববার নৌকাটির প্রধান মাঝি তার আত্মীয় এবং কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিত শরণার্থী মোহাম্মদ খান রেজওয়ানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বলেন, ‘আমরা এখানে মারা যাচ্ছি, আমাদের বাঁচান।’

ফোন পাওয়ার পর মোহাম্মদ খান রেজওয়ান শরণার্থী শিবির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ সম্পর্কে অবহিত করেন। ভারতের দৈনিক দ্য প্রিন্টকে রেজওয়ান বলেন, ‘সেখানকার পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। তাদের খাদ্য-পানি সব ফুরিয়ে গেছে।’এপিএইচআরের বোর্ডসদস্য ইভা সুন্দারি বিবৃতিতে বলেন, ‘২০০ মানুষ নিয়ে দিনের পর দিন ধরে একটি নৌকা সমুদ্রে ভাসছে এবং খাবার ও পানির অভাবে সেই নৌকার লোকজন মৃত্যুর প্রহর গুণছে— ন্যূনতম বিবেকসম্পন্ন লোকজনের জন্যও এটা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক একটি ব্যাপার।’

‘এই ক্ষুধার্ত-নিরাশ্রয় লোকজনদের অবহেলা করা মনুষ্যত্বকে অপমান করার শামিল।’

সংখ্যালঘু মুসলিম জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গা মিয়ানমারের সবচেয়ে নিপীড়িত জাতিস্বত্ত্বা। তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিও কেড়ে নিয়েছে দেশটির ক্ষমতাশালী সামরিক বাহিনী। মিয়ানমারে যাবতীয় সরকারি সুবিধা-সেবা-অধিকার থেকে এই জাতিগোষ্ঠী চরমভাবে বঞ্চিত। রোহিঙ্গাদের অধিকাংশেরই নিবাস আরাকান রাজ্যে।

২০১৭ সালে আরাকানের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে হামলা চালায় সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। তারপর আরাকানের সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগসহ ভয়াবহ নিপীড়ন শুরু করেন দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যরা।

সৈন্যদের অত্যাচারের মুখে টিকতে না পেরে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আরাকান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে পরিকল্পিতভাবেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল তাতমাদৌ নামে পরিচিতি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

তবে ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশের সরকার জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আর কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। ২০১৭ সালে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী এসেছিল, তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতেও আন্তর্জাতিক তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশের সরকার।

এদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নৌযাত্রার হার নাটকীয় হারে বেড়েছে। গত বছর মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করেছিলেন ২২১ জন রোহিঙ্গা।

অন্যদিকে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯২০ জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ