শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

ইউএফএস’র ১৫৮ কোটি টাকা লোপাট: এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জানতে চান হাইকোর্ট

প্রতিনিধির / ১২ বার
আপডেট : সোমবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৩
ইউএফএস’র ১৫৮ কোটি টাকা লোপাট: এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জানতে চান হাইকোর্ট
ইউএফএস’র ১৫৮ কোটি টাকা লোপাট: এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জানতে চান হাইকোর্ট

শেয়ারবাজার থেকে ১৫৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনের (ইউএফএস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ হামজা আলমগীরের পালিয়ে যাওয়ার সত্যতা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নামতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নজরে আসার পর স্বপ্রণোদিত হয়ে সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত বেঞ্চ।শেয়ারবাজারে চার মিউচুয়াল ফান্ডের ১৫৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনের (ইউএফএস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ হামজা আলমগীরের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। বিএসইসি, দুদক, আইসিবি ও বিএফআইইউকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘শেয়ারবাজারে ইউএফএস নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি, ১৫৮ কোটি টাকা নিয়ে দুবাই পালিয়েছে এমডি’ শিরোনামে গতকাল রবিবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। পরে আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বছরের প্রথম দিন একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতকে দেখিয়েছি। আদালত এই প্রতিবেদনের সত্যনিষ্ঠতা জানতে বিএসইসি, আইসিবি ও প্রতিবেদকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিএফআইইউকে এ ব্যপারে অনুসন্ধান চালাতে বলেছেন আদালত। ’

এ আইনজীবী আরো বলেন, ‘প্রতিবেদন অনুযায়ী সৈয়দ আলমগীর ২০১৮ সাল থেকে টাকা পাচার করছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো কিছুই জানে না। আমি বলেছিলাম অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন- ২০১২ অনুযায়ী সিঙ্গাপুরে পাচার করা টাকায় নিষেধাজ্ঞা দিতে। কিন্তু আদালত নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে রুলসহ আদেশ দিয়েছেন। তবে বিষয়টি আদালত গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। বিএসইসি ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে সবকিছু পরিষ্কার হওয়া যাবে। ’

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারে চার মিউচুয়াল ফান্ডের ১৫৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন (ইউএফএস) নামের একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি। এই টাকা নিয়ে গত বছর ১৩ অক্টোবর দুবাই পাড়ি দেন তিনি। বর্তমানে সৈয়দ হামজা আলমগীর সিঙ্গাপুরে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএসইসির তদন্তের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে তিনি এ টাকা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রতিবেদন জালিয়াতি এবং ভুয়া এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রেট) দেখিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অন্ধকারে রাখা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে চার বছর নিষ্ক্রিয় ছিল ফান্ডের ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান (গ্যারান্টি দেওয়া প্রতিষ্ঠান) আইসিবি। এরই মধ্যে কম্পানিটির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করতে বিএসইসি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ