বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ

প্রতিনিধির / ৭ বার
আপডেট : শনিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৩
মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ
মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ

বর্তমানে কোস্টগার্ডের একটি ড্রোন নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে। শিগগিরই বিজিবি’র মাধ্যমে ওই এলাকায় ড্রোন ব্যবহার বাড়ানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে-গত ২০শে জুন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দুইটি অত্যাধুনিক ও উন্নত ফিচারসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফি ড্রোনসহ সহযোগী সরঞ্জামাদি কেনা হয়েছে। বর্তমানে একটি ড্রোন ভাসানচরে এবং অপর একটি ড্রোন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিনস এ মোতায়েন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- সীমান্ত নজরদারি এবং সার্বিকভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবিতে ড্রোন/ইউএভি সংযোজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সুপারিশ করা হয়। সেখানে বলা হয়-বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। সংসদীয় কমিটির ২৩তম বৈঠকে বিষয়টি সম্পর্কে মৌলভীবাজার-২ আসনের এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, চট্টগ্রামে সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমার ভূখণ্ডে নিয়মিত গোলাগুলি হচ্ছে এবং অনেক সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ছে।

ফলে সেখানে বসবাসরত জনসাধারণের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই কারণে পর্যটকরাও চট্টগ্রামে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, শুধুমাত্র আপস কিংবা আক্রমণাত্মক প্রক্রিয়ায় নয়, কাউন্টার গুলির মাধ্যমে এখন নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার সময় এসেছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আমনের এমপি পীর ফজলুর রহমান বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে ধারাবাহিকভাবে গোলাগুলির ফলে সেখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধ রোধে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ জানতে চান। বৈঠকে একই বিষয় সম্পর্কে জানতে চান সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি বেগম রুমানা আলী।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত র‌্যাবের মহাপরিচালক জানান, মিয়ানমার সীমান্তে যেসব ঘটনা ঘটছে সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সার্বক্ষণিক অবহিত করা হচ্ছে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মিয়ানমারে গোলাগুলির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম কমিটিকে অবহিত করেন এবং সেখানে অবস্থানরত সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে কমিটিকে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধ করার জন্য মিয়ানমারকে কড়া ভাষায় নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে তাদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে।

তিনি কমিটিকে আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এখন মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি নিয়ে সবাইকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান। সংসদীয় কমিটি মানবজমিনকে জানায়, যেহেতু সীমান্ত এলাকায় মাঝে মাঝে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে তাই কমিটির পক্ষ থেকে ড্রোন ব্যবহারের ওপর আপাতত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কারণ অত্যাধুনিক ড্রোনের সহায়তায় সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়।

ড্রোনের মাধ্যমে ছবি তোলার কারণে সীমান্ত এলাকায় যারা গোলাগুলি করছে তাদের বিষয়েও ধারণা পাওয়া যায়। ড্রোন বা ইউএভি হচ্ছে এমন এক ধরনের উড়োজাহাজ মানে বিমান যা পাইলট বাদে চলাচল করে। সাধারণ ইউএভিগুলোতে মূলত একটি ক্যামেরা, পাখা, আর কিছু সেন্সর থাকে। যা তাকে আকাশে উড়তে এবং সঠিক পথে যেতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই সাধারণ ইউএভি হোক আর সামরিক ইউএভি, সবকিছুই রিমোট দ্বারা চালনা করা লাগে। অপরদিকে সামরিক ইউএভিগুলোতে থাকে ককপিট, স্পাই ক্যামেরা, লেজার, জিপিএস, সেন্সর, লাইটিং সেন্সর ইত্যাদি। তবে এটার সমস্ত ইউএভিগুলো থাকে এর নাকের কাছে ও যার কারণে এরা অনেক বেশি দূরে যেতে পারে। আর এইগুলোর জন্য অবশ্যই একটা রানওয়ে দরকার। ড্রোন এর মূলত ২টি অংশ থাকে একটি হচ্ছে ড্রোন নিজে ও অপরটি হচ্ছে এর কন্ট্রোলার সিস্টেম।

গ্রাউন্ড কন্ট্রোলার নিজে নির্দেশ দেয় আর সেটা উপগ্রহ হয়ে ড্রোন এর কাছে যায়। ড্রোন তা গ্রহণ করে সেই কমান্ড অনুযায়ী কাজ করে। ঠিক একইভাবে ড্রোনও গ্রাউন্ড কন্ট্রোলার এর কাছে একইভাবে তার তথ্য পাঠিয়ে থাকে। এই কাজগুলো করতে ড্রোন এর সময় লাগে মাত্র ২ সেকেন্ড। এদিকে মিয়ানমারের ভেতর চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তে উত্তেজনা এবং হতাহতের ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক বসে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ৪ বার তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ, গোলাবর্ষণ এবং মিয়ানমারের হেলিকপ্টার উড্ডয়নে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ সীমান্তের মানুষ। মিয়ানমার বলেছে, সীমান্তে যাতে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে পারেন সেজন্য তারা কার্যকরী ব্যবস্থা নেবেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ