বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে নতুন সাজে সেজেছে রাজশাহী

প্রতিনিধির / ৭৪ বার
আপডেট : শনিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে নতুন সাজে সেজেছে রাজশাহী
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে নতুন সাজে সেজেছে রাজশাহী

রোববার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি।এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে নতুন সাজে সেজেছে রাজশাহী। পুরো নগরীজুড়ে এখন সাজসাজ রব।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এই জনসভায় স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম ঘটবে। রাজশাহী ছাড়াও বিভাগের সব জেলা থেকে নেতাকর্মীদের সমাগমের প্রস্তুতি চলছে। শুধু জনসভাস্থলই নয়, এদিন পুরো মহানগরীজুড়ে লোকে লোকারণ্য থাকবে।প্রায় পাঁচ বছর পর রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি।

জানা গেছে, রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন। বিকেলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। এখানে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ৩২ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

দলীয় প্রধানের আগমনকে ঘিরে উল্লাসিত নেতাকর্মীরা। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর মধ্যেই এখন চাঙা ভাব বিরাজ করছে। আর প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে পাড়ায় পাড়ায় চলছে প্রস্তুতি। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে করা হয়েছে বর্ধিত সভা। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে জনসভায় যোগদানের জন্য বিপুল সংখ্যক বাস, ট্রাক ভাড়া করা হয়েছে। ট্রেনযোগেও আসবেন নেতাকর্মীরা।এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নতুন সাজে সেজেছে রাজশাহী শহর। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শহরের প্রতিটি বড় রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক তোরণ। ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী। জনসভার প্রচারে নগরীজুড়ে চলছে মাইকিং। প্রায় প্রতিদিনই নগরীর কোথাও না কোথাও প্রচার মিছিল হচ্ছে। সাধারণ মিছিলের পাশাপাশি অনেকেই করছেন মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। অনেক নেতা এই জনসভাকে ঘিরে শোডাউন দিচ্ছেন। নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। প্রচারের ক্ষেত্রে যেন নেতাই নেতাই চলছে প্রতিযোগিতা।

দলীয় সূত্র বলছে, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে ট্রেন, বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগ দেবেন। কোন নেতার নেতৃত্বে কতটি গাড়ি রাজশাহীতে আসবে সেটারও তালিকা করা হয়েছে। জেলার নেতারা উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন।এদিকে, স্থানীয় নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের জনসভায় রাজশাহীর জন্য কোনো চাওয়া নেই। বরং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আগামীদিনের জন্য কী নির্দেশনা দিয়ে যাবেন সেটিই তারা শুনতে চান।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর মানুষের জন্য অনেক কিছু দিয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। শুধু আমাদের জন্য নয়, পুরো দেশের জনই তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন। মানুষের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দিয়েছেন। একারণে এবার আমরা আমাদের নেত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করে আমরা এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো।

জনসভা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। রাজশাহীর পাশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সভা-সমাবেশ ও প্রচার মিছিল করা হয়েছে। সব জায়গায় আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা স্মরণকালের সর্ববৃহৎ হবে, মানুষের কাছে জনসভাটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। উন্নয়নের ছোঁয়ায় রাজশাহীও বদলে গেছে। প্রশস্ত সড়ক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, আলোকায়নসহ সর্বক্ষেত্রে রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন হয়েছে। যার সুফল পাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। এই নগরীর সুনাম দেশ ও বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।রাসিক মেয়র আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় স্বতস্ফুর্তভাবে উপস্থিত হয়ে তাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মানুষের ঢল নামবে-সেটিই আমরা দেখতে পাচ্ছি।

এদিকে, জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রফিকুল আলম বলেন, রাজশাহীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর প্রতিটি পয়েন্টেই নিরাপত্তা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ