বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

বৈদেশিক মুদ্রা আইন না মানলে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা

প্রতিনিধির / ৪৬ বার
আপডেট : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
বৈদেশিক মুদ্রা আইন না মানলে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা
বৈদেশিক মুদ্রা আইন না মানলে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইন না মানলে ব্যাংক বা মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করতে পারে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত প্রক্রিয়ায় যেতে পারে। কিন্তু অনেক সময় তাৎক্ষণিক জরিমানা করলে নিয়ন্ত্রণের জন্য সহায়ক হতে পারে বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা ও বিনিময় ব্যবসা বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিধিমালার খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ২৭ ধারার ক্ষমতাবলে আইনের ৩ ধারার ৫ উপধারার উদ্দেশ্য পূরণে এ বিধিমালা হচ্ছে। কিছু উপবিধি লঙ্ঘন অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক বা ব্যাংক শাখা বা মানি চেঞ্জারকে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। জরিমানা আরোপের পর আইন লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনের পর থেকে প্রতিদিনের জন্য ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যাবে।এতে উল্লেখ করা হয়, বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদিত ডিলার হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন বা লাইসেন্সের শর্তাবলি লঙ্ঘন জরিমানার আওতায় পড়বে।

এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সময়ে সময়ে জারি করা আদেশ বা শর্ত বা কোনো বিধির লঙ্ঘন ঘটানো হলে জরিমানা করা হবে। কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য উপস্থাপনও এর আওতায় পড়বে। জরিমানা আরোপের আগে আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ‘কেন আর্থিক জরিমানা করা হবে না’, সে বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়, জরিমানার অর্থ সংশ্নিষ্ট ব্যাংক ও মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে আদেশ প্রদানের ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে পরিশোধ করতে হবে। তবে এ সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংকে সংশ্নিষ্ট ব্যাংকের রক্ষিত অর্থ থেকে কেটে নেওয়া হবে। আর মানি চেঞ্জারের ক্ষেত্রে আরোপিত জরিমানার অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে লাইসেন্স নবায়নযোগ্য হবে। এ ক্ষেত্রে শাস্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে আবেদন করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, খসড়া নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের মতামত জানিয়েছে। এখন অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এরপর চূড়ান্ত করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। এটি কার্যকর হলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রস্তাবিত বিধিমালার ওপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জরিমানার আওতায় সংশ্নিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কর্মকর্তাদের ওপর জরিমানা প্রযোজ্য হওয়ার সুযোগ বিদ্যমান আইনি বিধানে না থাকায় বিধিমালায় তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আরেক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিধিমালায় অনুমোদিত ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের শর্ত আরোপের বিধান রাখা হয়নি। লাইসেন্স বাতিলের শর্ত আরোপ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে. আইনের অন্য উপধারায় ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ রয়েছে। এ কারণে বিধিমালায় এ শর্ত আরোপ করা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ