মঙ্গলবার, ২১ মার্চ ২০২৩, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দামে ধস ,দেশে কমার খবর নেই

প্রতিনিধির / ১৪ বার
আপডেট : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দামে ধস ,দেশে কমার খবর নেই
আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দামে ধস ,দেশে কমার খবর নেই

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিটন গমের কেনা দর ছিল ৩০৭ ডলার। যুদ্ধ শুরুর পর সরবরাহ সংকট তৈরি হলে চারদিকে অস্থিরতা তৈরি হয়। গম কেনার মূল গন্তব্য ইউরোপের বাজার থেকে গম আসা কমে যায়। ব্যবসায়ীরা বিকল্প হিসেবে ভারত থেকে কিনতে গেলে সেখানেও শর্তের বেড়াজালে আটকা পড়েন। এই অবস্থায় দাম হু হু করে বেড়ে ২০২২ সালের মে মাসে গমের দামে রেকর্ড অর্থাৎ টনপ্রতি ৪৬৫ ডলারে বিক্রি হয়। সেই যুদ্ধের প্রায় এক বছর। এই সময়ে অর্থাৎ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দামে ধস নেমেছে। এই সুযোগে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অনেক কম দামে গম কিনছেন। কিন্তু এর সুফল দেশের বাজারে মিলছে না।

এদিকে গমের দাম যখন চূড়ায় ওঠে, তখন গম দিয়ে তৈরি বেকারি পণ্যের দাম ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায় বেকারি অ্যাসোসিয়েশন। এর ফলে একটি ৫০০ গ্রামের পাউরুটি কিনতে আগে যেখানে ৬০ টাকা লাগত, দাম বেড়ে গিয়ে সেটি ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়। একইভাবে আটা, ময়দা, সুজি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের দামও রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। এখন গম আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে কিনলেও বেকারি পণ্যের দাম কিন্তু আগের বাড়তি দামই নেওয়া হচ্ছে।প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আর কত কমলে দেশে গমের দাম কমবে? কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ব্যবসায়ীদের আসলে অজুহাতের কোনো শেষ নেই। আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কথা বলা হচ্ছিল, এখন ডলারের কথা বলা হচ্ছে। ডলারসংকট কাটলে সামনে নতুন কোনো অজুহাত দাঁড় করিয়ে একইভাবে দাম বাড়ানো হবে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতিমণ ভারতীয় গম ৯০০ টাকা ও কানাডার গম এক হাজার ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতো। যুদ্ধ শুরুর পর ক্রমাগতভাবে দাম বেড়ে গত মে মাসে ভারতীয় গম মণপ্রতি এক হাজার ৬৫০ টাকা এবং কানাডার গম দুই হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দামে ধস নামার পরও গতকাল সেই গম বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৮৫০ টাকায়, আর কানাডা, ইউক্রেন ও রাশিয়ার গম এক হাজার ৯২০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক এটিআর ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কমলেও ডলারের দামে অস্থিরতা, ঋণপত্র খোলা নিয়ে ব্যাংকগুলোর অনীহা এবং মূল্য পরিশোধে জটিলতার কারণেই পুরোপুরি সুফল মিলছে না।দেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট গম আমদানি হয়েছে ৫৩ লাখ ৪২ হাজার টন। এর মধ্যে বেসরকারিভাবে ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার টন এবং সরকারিভাবে পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার টন আমদানি হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার টন গম আমদানি করে বেসরকারি খাত। আর সরকারিভাবে পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার টন গম আমদানি হয়। অর্থাৎ সেই অর্থবছরে মোট ৪০ লাখ টনের বেশি গম আমদানি হয়।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে জুলাই-৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট গম আমদানি হয় ১৫ লাখ ৪৬ হাজার টন। সরকারিভাবে এসেছে পাঁচ লাখ ১৩ হাজার টন। আর বেসরকারি উদ্যোগে এসেছে ১০ লাখ ৩২ হাজার টন।

খাতুনগঞ্জের আড়তদার সোলায়মান বাদশা মনে করেন, ছোট ব্যবসায়ীদের ছোট আকারে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিলে বাজারে প্রতিযোগিতা থাকবে। দামে একচেটিয়া আধিপত্য থাকবে না। এখন বহির্নোঙরে আসার পরই জাহাজভর্তি পণ্য কিনে নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী। এর ফলে সেই পণ্য বাজারে সরবরাহ না দিয়ে তাঁরা ধরে রাখছেন। ছোট ব্যবসায়ীরা বাজারে থাকলে সেই সুযোগ থাকত না। তাঁর কথার প্রমাণ মিলেছে গম আমদানির তথ্যে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) টাকার অঙ্কে দেশে মোট সাত হাজার ৬১৩ কোটি ১২ লাখ টাকার গম আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন সোনালি ট্রেডার্স আমদানি করে দুই হাজার ৪৯ কোটি টাকার গম। গম আমদানিতে দ্বিতীয় স্থানে আছে সরকারের খাদ্য বিভাগ। তাদের আমদানি ব্যয় এক হাজার ৬৪২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এরপর মেঘনা গ্রুপের সোনারগাঁ ফ্লাওয়ার অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড আমদানি করেছে এক হাজার ১৭১ কোটি ৪২ লাখ টাকার গম।এস আলম গ্রুপের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কাজী সালাউদ্দিন আহমেদকে ফোন দিলে সবচেয়ে বেশি গম আমদানির বিষয়টি স্বীকার করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ