মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

রাবিতে ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে চিফ কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের অভিযোগ

প্রতিনিধির / ১৮৩ বার
আপডেট : রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩
রাবিতে ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে চিফ কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের অভিযোগ
রাবিতে ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে চিফ কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভা ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিটভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম সমন্বয় কমিটি গঠন করে তিন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এই নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের বিরুদ্ধে পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এ, বি ও সি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক নিয়োগ দেয়া হয়। এ ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক নিয়োগ দেয়া হয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ হোসেনকে। বি ইউনিটের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: ফরিদুল ইসলাম এবং সি ইউনিটের দায়িত্ব পান জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ শহিদুল আলম। তবে এই তিনটি ইউনিটের মধ্যে গতবারের এ ও বি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ককে পুনরায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একই ব্যক্তিকে দ্বিতীয়বার নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি তোলেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা। পরে প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ভিসি তার একক ক্ষমতাবলে পুনরায় তাদের নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রথাবিরোধী মনে করছেন কমিটির সদস্যরা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী প্রতিবছর প্রত্যেক ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক পদটি পরিবর্তিত হয়ে এলেও এবার সেটি হয়নি। এই পদে দ্বিতীয়বার কাউকে নিয়োগ দেয়ার ঘটনা ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেনি। বিশ্ববিদ্যালয় ১২ জন ডিন থাকা সত্ত্বেও এই পদে একই ব্যক্তিকে দ্বিতীয়বার নিয়োগ দেয়াকে অযৌক্তিক বলে মনে করেন তারা।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বারে মতো এ ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইলিয়াস হোসেকে। তবে গতবারের ভর্তি পরীক্ষায় তার ইউনিটে ঘটেছে প্রক্সি-কাণ্ডের মতো ঘটনা। ‘এ’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটে ৯২ দশমিক ৭৫ নম্বর পেয়ে প্রক্সি-কাণ্ডে আটক হওয়া শিক্ষার্থী প্রথম হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় তিনজনকে আটকও করা হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনা জানাজানি হলে ওই শিক্ষার্থীর ফলাফল বাতিল করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন এই ঘটনার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ‘এ’ ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, ‘এ এবং বি ইউনিটে একই কোর্ডিনেটরকে পুনরায় নেয়া হয়েছে। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, এটা তো ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত নয়, তাহলে ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত বলে লেখা হলো কেন? তখন ভিসি জানালেন, এটা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, ভর্তি কমিটির নয়। আমরা (ভর্তি কমিটি) রিপোর্ট করছি। এই সিদ্ধান্ত ভর্তি কমিটির নয়।

ভর্তি কমিটির সদস্য হিসেবে এর কোনো দায় আমি গ্রহণ করব না। প্রতিবছর এই পদ পরিবর্তন করার প্রথা যদি থেকে থাকে, তাহলে প্রশাসনের সে প্রথা ভাঙা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।ভর্তি পরিক্ষা কমিটির আরেক সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) পরিচালক অধ্যাপক ড. জিন্নাত আরা বেগম। তিনি বলেন, প্রতিবছরই ইউনিটগুলোর প্রধান সমন্বয়ক পরিবর্তন হয়ে এসেছে। তবে এইবার সেটি হয়নি। এবার হয়তো কর্তৃপক্ষ মনে করেছেন যে এভাবে হলেই ভালো হবে। সেজন্যই হয়তো এমনটি করা হয়েছে।

একবার আইবিএ পরিচালক পান ও অন্যবার পান ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ডিন। গেল বছর হয়েছেন ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। কিন্তু এবার আইবিএ-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. জিন্নাত আরা বেগমকে প্রধান সমন্বয়ক করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। কারণ ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের সাথে বনিবনা না থাকায় তিনি প্রচলিত নিয়ম ভেঙে একই ব্যক্তিকে পুনরায় নিয়োগ দিয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘এ’ ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনাবিষয়ক সাব-কমিটিতে আমরা ভিসি মহোদয়কে তিনটি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কের নাম মূল কমিটিতে প্রস্তাবের কথা বলেছিলাম। এরপর তিনি (ভিসি) ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটির সভায় তিনটি নাম প্রস্তাব করেন। সভায় সবার আলোচনার ভিত্তিতেই তিনটি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক নিয়োগ দেয়া হয়।

দ্বিতীয়বার নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বার ইউনিটের চিফ কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ এর আগে অনেকবার হয়েছে। কলা অনুষদের ডিন পরপর দু’বার এই দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিনও পরপর দু’বার দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউ দ্বিতীয়বার দায়িত্ব পেল কি পেল না, এসব কোনো বিষয় নয়। ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাটাই মূল বিষয়।’তবে পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, ‘আমি দু’বার দায়িত্ব পালন করেছি। তবে সেটি পরপর নয়। ২০১৮ সালে আমি ‘এ’ ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেছি। তখন এ ইউনিটের অধীন ছিল কলা ও চারুকলা অনুষদ। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ তখন ছিল ভিন্ন। এরপর ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব করেছি। আর ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন পরপর দু’বার ‘সি’ ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সেটি পরীক্ষার কমিটির সিদ্ধান্তে। এবার যেটি হয়েছে, এতে কমিটির আপত্তি ছিল।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘ইউনিটগুলোর প্রধান সমন্বয়ক নিয়োগের বিষয়টি ভর্তি পরীক্ষা ‘উপ-কমিটির (কয়েকজন ডিনের সমন্বয়ে ছোট কমিটি) মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে। সেখান থেকে তিনটি ইউনিটের জন্য তিনজনের নাম মূল কমিটিতে (সকল ডিন ও চেয়ারম্যানদের সমন্বয়কে বড় কমিটি বলে) গৃহীত হয়েছে। কাজেই এটা একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, উপ-কমিটির সিদ্ধান্ত।কমিটির সদস্যদের আপত্তির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেটা হয়েছে, সেটা কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। তারা কোনো লিখিত আপত্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানায়নি। এখন তো এসব বললে হবে না।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ