বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ কার্যক্রম দেড় মাস ধরে বন্ধ

প্রতিনিধির / ১৩১ বার
আপডেট : বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০২৩
জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ কার্যক্রম দেড় মাস ধরে বন্ধ
জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ কার্যক্রম দেড় মাস ধরে বন্ধ

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত উন্নতমানের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ বা ছাপানো কার্যক্রম প্রায় দেড় মাস যাবত বন্ধ রয়েছে। কারিগরি ত্রুটি এবং আর্থিক জটিলতার কারণে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে স্মার্ট কার্ড ছাপানো। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ বন্ধ রেখেছে। যদিও বিএমটিএফ জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকতে পারে। তবে দ্রুত চালু হয়ে যাবে। এছাড়াও স্মার্ট কার্ড মুদ্রণের জন্য ইসির সংরক্ষণে থাকা ১০টি মেশিনের সাতটি সচল আছে। যে কারণে মাঝেমধ্যে বন্ধ রাখতে হচ্ছে স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ। তবে ইসির সূত্র বলছে, কারিগরি সমস্যা নয়, আর্থিক কারণেই স্মার্ট কার্ড ছাপানো বন্ধ আছে।

ইসির সংশ্লিষ্ট একজন বলেছেন, কারিগরি ত্রুটির পাশাপাশি, স্মার্ট কার্ড পারসোনালাইজেশন বাবদ বকেয়া থাকায় কার্ড ছাপানো বন্ধ আছে। এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের শুরু থেকে প্রায় এক মাস স্মার্ট কার্ড ছাপানো বন্ধ ছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে তৎকালীন প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া ছিল। পরে আলোচনা সাপেক্ষে পুনরায় চালু করা হয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ ইত্তেফাককে বলেন, মেশিন নষ্ট থাকার কারণে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে স্মার্ট কার্ড ছাপানো বন্ধ রয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে পুনরায় স্মার্ট কার্ড ছাপানো কার্যক্রম শুরু হবে।

বিএমটিএফের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, স্মার্ট কার্ড কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়ে আমাদের নির্বাচন কমিশন থেকে অফিশিয়ালি কিছুই জানানো হয়নি। তবে আনঅফিশিয়ালি জেনেছি, স্মার্ট কার্ড কার্যক্রম বন্ধ আছে। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।ইসি সূত্র জানায়, স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করার জন্য ফ্রান্স থেকে ১০টি মেশিন আনা হয়েছিল। সেগুলোর প্রায় সাত বছর বয়স হয়েছে। মেশিনগুলো প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডারে স্থাপন করা হয়। তবে মেশিনগুলোতে মাঝেমধ্যেই সমস্যা হচ্ছে। যদিও আনার সময় এগুলোর মেয়াদকাল ১০ বছর বলা হয়েছিল। মেশিনগুলো প্রতিদিন একবার, সপ্তাহে একবার, মাসে একবার পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া প্রয়োজনের নিরিখে ডিপ ক্লিনিংও করা হয়। ডিপ ক্লিনিংয়ের সময় পুরো মেশিন খুলতে হয়। যার জন্য তখন কয়েক দিন স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট বন্ধ রাখতে হয়। এ কারণে এর আগেও মাঝেমধ্যে স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট বন্ধ ছিল। তবে স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট বন্ধ রয়েছে অন্য কারণে। স্মার্ট কার্ড পারসোনালাইজেশন বাবদ ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) থেকে জানানো হয়েছে। এই টাকা পরিশোধ নিয়ে ইসি ও বিএমটিএফের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। এই বকেয়া টাকা না দেওয়ার কারণেই মূলত এবার স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট বন্ধ রয়েছে। উভয়পক্ষের আলোচনায় ৯৭ কোটি টাকা পরিশোধের পরিবর্তে পুনরায় স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

২০১৬ সালে প্রথম স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয় নাগরিকদের। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ৭ কোটি ১০ লাখের বেশি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রিন্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমদিকে ফ্রান্সের একটি কোম্পানির মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু নানান জটিলতার কারণে সেটি থেকে পিছু হটে ইসি বিএমটিএফের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড পারসোনালাইজেশন করে।পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পরিবর্তে দেশের ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দিতে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিস (আইডিইএ)’ প্রকল্প হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ২০১১ সালে গৃহীত হওয়ার পর এক যুগে ছয় বার মেয়াদ বেড়েছে প্রকল্পটির। আরো ৩ কোটি নাগরিককে স্মার্ট কার্ড দিতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার সময়ও দুই বছর পেরিয়ে গেছে। নতুন প্রকল্প ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা। যদিও এখন পর্যন্ত কেবল সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ