শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন

ফ্যান ঝোলানোর আঙটার মায়ের ঝুলন্ত দেহ!

প্রতিনিধির / ৬৮ বার
আপডেট : শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০২৩
ফ্যান ঝোলানোর আঙটার মায়ের ঝুলন্ত দেহ!
ফ্যান ঝোলানোর আঙটার মায়ের ঝুলন্ত দেহ!

স্বামী ও এক সন্তান থাকেন সৌদি আরব। মাস গেলেই টাকা আসে ব্যাংকে নিজ নামের হিসাবে। সেই সাথে বাড়ির দ্বিতীয় তলা নির্মণাধীন। আছে অনেক ফসলি জমি। আর এই বাড়িতে দুই শিশু সন্তান নিয়ে গৃহবধু সাথী আক্তার (৩৫) সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন বলেই জানেন এলাকাবাসী। হঠাৎ শুক্রবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। তার ১২ বছরের শিশুকন্যাটি খুঁজতে থাকে মাকে। পরে সে দো-তলার একটি কক্ষে ফ্যান ঝোলানোর আঙটার সাথে মায়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরকামাটকালি গ্রামে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই গ্রামের গৃহবধু সাথী আক্তার। স্বামী বাবুল মিয়া দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। তিন সন্তান নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন স্বচ্ছলভাবে। সময়ের সঙ্গে পরিবারটির সবকিছুর পরিবর্তন ঘটে। চারতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে দো-তলা বাড়ির কাজ প্রায় শেষের পথে। এর মধ্যে গত প্রায় আট মাস আগে ছেলে ফয়সাল মিয়াও (১৮) বাবার কাছে চলে যায়।প্রতিবেশীরা জানান, এক সময় বাবুল মিয়ার দূরাবস্থা থাকলেও অল্প দিনেই অবস্থা ফিরেছে। গৃহবধূ সাথী আক্তারকে সুখী মানুষ হিসেবেই জানেন সবাই।

জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই সাথীকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তার দুই মেয়ে ও বৃদ্ধা শাশুড়ি। বড় মেয়ে সামিয়া (১২) জানায়, প্রায়ই তার মা ব্যাংকে কাজ আছে বলে পাশেই গফরগাঁও উপজেলায় যেতেন। পরে আবার দুপুরের পর চলে আসেন। মাকে না পেয়ে মেয়ে আশপাশটা দেখে নিচ্ছিল- মা আছেন, নাকি ব্যাংকে গেছেন। নির্মাণাধীন বাড়ির দোতলায় গিয়ে দেখতে পায়, একটি কক্ষে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে রয়েছে মা। চিৎকার করলে লোকজন ছুটে আসেন এবং সাথীর দেহটি নিচে নামান। কিন্তু ততক্ষণে তিনি মৃত। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।মৃত সাথীর বাবা আবুল কাশেম জানান, গত ২১ মার্চ তার মেয়ে গফরগাঁও উপজেলার অগ্রণী ব্যাংক শাখায় যায় টাকা ওঠাতে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরদিন তাকে পাওয়া যায় ঢাকায়। সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনলে জানা যায়, ব্যাংক থেকে ওঠানো সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় একটি চক্র। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

সাথীর শ্বশুরবাড়ির প্রতিবেশীরা জানান, সাথী বিভিন্ন কথা বলে অনেকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আর পাওনাদারের চাপে ও প্রবাসে থাকা স্বামী জানতে পারায় বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি ছিলেন মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। এসব কারনেই আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ওই নারীর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করার ঘটনা রহস্যজনক। প্রকৃত ঘটনা জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ