রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে

প্রতিনিধির / ৪৮ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৩
৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে
৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে

ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবে ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অতীতে নিবন্ধনের বিপক্ষে থাকলেও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় অনুমোদনের পথেই এগোচ্ছে।

তবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রথম সভায় রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। গত রোববার অনুষ্ঠিত এ সভায় সিদ্ধান্ত হয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে। সভা সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে। সড়ক পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইউছুব আলী মোল্লা সমকালকে বলেছেন, সিদ্ধান্ত নিতে আরও বৈঠক হবে।পরিবহন খাত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন দিতে উৎপাদক এবং আমদানিকারকদের প্রস্তাবের পাশাপাশি একটি কোম্পানির চাপ রয়েছে। এ কারণেই মন্ত্রণালয় তৎপর হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের নিবন্ধন দিচ্ছে বিআরটিএ। সংস্থাটির মতো পুলিশও উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিনের মোটরসাইকেলকে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিপক্ষে। এ ক্ষেত্রে যুক্তি, অপরাধীরা উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিনের মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যাবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারে।

তবে গত বছরের এপ্রিলে নীতিমালা সংশোধন করে ৫০০ সিসির মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দেশে উৎপাদন করে দেশীয় বাজারে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়। বিদেশে রপ্তানির অনুমতি আগে থেকেই রয়েছে। অনুমতি পেলেও ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেলকে বিআরটিএ নিবন্ধন না দেওয়ায় বিক্রি করতে পারছে না কোম্পানিগুলো। রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি পেলে এই বাধা থাকবে না। গত নভেম্বরে বিআরটিএ চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়, মোটরসাইকেল চালকদের সিংহভাগ তরুণ। ফলে উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিনের মোটরসাইকেলের অনুমোদন দিলে দুর্ঘটনা বাড়বে।যুক্তরাজ্যের রয়েল এনফিল্ড বাংলাদেশে মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বাজারজাত করতে কাজ শুরু করেছে। কারখানা স্থাপনে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে ৩০ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইফাদ অটোস। ৩৫০ থেকে ৫০০ সিসির মোটরসাইকেল উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটি রয়েল এনফিল্ডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

বাংলাদেশের রানার অটোমোবাইলস আগেই ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। জাপানের সুজুকি এবং কাওয়াসাকি ২৫০ সিসি পর্যন্ত ক্ষমতার ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বাংলাদেশে বাজারজাত করতে সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে।মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, আগে বিরোধিতা করলেও কোম্পানিগুলোর ‘তদবিরে’ ৫০০ সিসির মোটরসাইকেলের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। ইফাদ অটোসের প্রস্তাবেই এক লাফে ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি গতি পেয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ধামরাইয়ের কারখানায় কর্মশালায় অংশ নেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রহস্যজনক কারণে বিআরটিএও এখন আর আগের মতো বিরোধিতা করছে না। গত রোববারের বৈঠকে যোগ দেওয়া সংস্থাটির চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার অবশ্য সমকালকে বলেছেন, রেজিস্ট্রেশন অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আরও অনেক ধাপ বাকি। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও জানতে পারেনি সমকাল।

৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানি ও বিক্রির পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত উৎপাদক এবং সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। যেসব প্রতিষ্ঠান ১৬৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদন করে তারা এর বিরুদ্ধে। তাদের যুক্তি ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল বিক্রির অনুমতি দিলে আগের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বেশি সিসি মোটরসাইকেল বিক্রি বাড়বে। তাদের উৎপাদিত মোটরসাইকেলের বিক্রি কমবে।

বাংলাদেশ মোটরসাইকেল সংযোজনকারী ও উৎপাদক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান। তিনি সমকালকে বলেন, ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বাজাজের ৩০০ এবং ৩৫০ সিসির মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন। আগামী জুলাইয়ে এগুলো আসবে। উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলের নিবন্ধন অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন ফি বাস্তবসম্মত হতে হবে। লাখ টাকা ফি হলে ক্রেতারা কিনবেন না।

বর্তমানে ১০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ১০ বছরের রেজিস্ট্রেশন ফি ১২ হাজার ২৭৯ টাকা। ১০১ থেকে ১৬৫ সিসির মোটরসাইকেলের ফি ১৯ হাজার ৩৫২ টাকা। ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে ফি নির্ধারণের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আগে রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি দেওয়া হোক, তারপর ফি নির্ধারণ করা হবে। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়তে চাই না।’

উৎপাদক এবং বিপণনকারীদের হিসাবে দেশে বছরে প্রায় ৭ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। ২০১০ সালে ঢাকায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৮৭৯টি। এক যুগে তা পাঁচ গুণ বেড়ে হয়েছে ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৫টি। সারাদেশে নিবন্ধিত ৫৬ লাখ যানবাহনের মধ্যে ৪০ লাখ ৯০ হাজার ১৪৩টি মোটরসাইকেল যা ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৫ গুণ বেশি। ২০২২ সালে সারাদেশে ৫ লাখ ৬ হাজার ৯১২টি নতুন মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে।

মোটরসাইকেল বৃদ্ধিতে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, গত বছর ২ হাজার ৯৭৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯১ জন। এটা মোট প্রাণহানির প্রায় ৪০ শতাংশ। ৪৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ দুর্ঘটনায় ছিল মোটরসাইকেলের সংশ্লিষ্টতা।

সিসির সঙ্গে মোটরসাইকেলের গতির সরাসরি সম্পর্ক নেই। ইঞ্জিনের ভেতরে ঘূর্ণায়মান পিস্টনের আয়তন যত বড়, সিসিও তত বেশি। বড় আয়তনের পিস্টন বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে। মতিউর রহমান বলেছেন, উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য বেশি থাকে বলে অধিক নিরাপদ।

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেছেন, চার চাকার গাড়ির তুলনায় মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা ঝুঁকি ৩০ গুণ বেশি। বাংলাদেশের সড়ক এবং অদক্ষ চালক মোটরসাইকেলের জন্য উপযুক্ত নয়। আগে এই দুই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ