মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

ভারত, নেপাল ও ভুটানের বিশাল বাজার ধরতে বাংলাদেশে শিল্পাঞ্চল গড়তে চায় জাপান

প্রতিনিধির / ৭৮ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৩
ভারত, নেপাল ও ভুটানের বিশাল বাজার ধরতে বাংলাদেশে শিল্পাঞ্চল গড়তে চায় জাপান
ভারত, নেপাল ও ভুটানের বিশাল বাজার ধরতে বাংলাদেশে শিল্পাঞ্চল গড়তে চায় জাপান

ভারত, নেপাল ও ভুটানের বিশাল বাজার ধরতে বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে চায় জাপান। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে শিল্পাঞ্চল তৈরিসহ অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

এ নিয়ে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশে একটি শিল্পাঞ্চল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে জাপান। যেখান থেকে পণ্য যাবে ভারতের ভূবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য এবং নেপাল ও ভুটানে। এ লক্ষ্যে বন্দর উন্নয়নসহ আঞ্চলিক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলবে জাপান। গত মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরের পর এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই শিল্পাঞ্চল ৩০ কোটি মানুষের আবাসস্থল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগর এলাকায় উন্নয়ন জোরদার করবে বলে জাপানের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন।কিশিদার ভারত সফরের পর জাপান সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ১২৭ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে। মূলত তিনটি অবকাঠামো প্রকল্পে এই বিনিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে আছে মাতারবাড়ী অঞ্চলে নতুন একটি বাণিজ্যিক বন্দর, যার সঙ্গে ত্রিপুরাসহ ভারতের স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল সংযুক্ত হবে। তবে এই বন্দরের আওতা শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বাজার ধরাও হবে এর লক্ষ্য।

ভারতে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোশি সুজুকি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশ, ভারত ও জাপানের মধ্যকার এক বৈঠকে এসংক্রান্ত যে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, সে সম্পর্কে তিনি গত মঙ্গলবারে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এটা ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্যই লাভজনক হতে পারে।’হিরোশি সুজুকি আরো বলেন, ‘গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম সম্ভবত ২০২৭ সালের মধ্যে শুরু হবে। একটি শিল্পাঞ্চল নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যার মধ্য দিয়ে ঢাকার সঙ্গে ভারতের স্থলবেষ্টিত অঞ্চলের সংযোগ স্থাপিত হবে।’

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি ওই বৈঠকে জাপানের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং জাপানসহ অন্যান্য দেশের বিনিয়োগ আসার পথ সুগম হবে।’নির্মীয়মাণ মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর, যেখানে বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে। ত্রিপুরায় দুই দিনের এই বৈঠক আয়োজন করেছিল গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স। প্রতিষ্ঠানের প্রধান সব্যসাচী দত্ত বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর থেকে ত্রিপুরার দূরত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার। ফলে মাতারবাড়ী বন্দর ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রপ্তানিকারকদের প্রবেশদ্বার হতে পারে।রয়টার্স জানিয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত জাপান সফর করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ