শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ইমরান খানের সমাবেশে

প্রতিনিধির / ৮২ বার
আপডেট : রবিবার, ৭ মে, ২০২৩
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ইমরান খানের সমাবেশে
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ইমরান খানের সমাবেশে

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। দেশটির খাইবারপাখতুনখোয়া প্রদেশে শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে। আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকা অত্যন্ত রক্ষণশীল বলে পরিচিত। সেখানেই ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) একটি সমাবেশে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার মরদান শহরের সাওয়াল ঢের এলাকায় ছিল পিটিআইয়ের সমাবেশ। সেখানে সমাপ্তি প্রার্থনা পরিচালনার জন্য ডাকা হয়েছিল নিগার খান নামের একজনকে। প্রার্থনার অন্তিম লগ্নে নিগার ধর্ম অবমাননামূলক কিছু মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। তা শুনেই খেপে ওঠে জনতা। নিগার কোনো রকমে সভা ছেড়ে পালাতে সক্ষম হলেও জনগণ তার পিছু ছাড়েনি। ধাওয়া করে ইমরান সমর্থকরা পৌঁছে যায় নিগারের এক আত্মীয়র বাড়িতে। নিগার প্রাণের ভয়ে সেই বাড়িতেই লুকিয়ে ছিলেন। তারপর বাড়িতে ঢুকে চলে গণপিটুনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নিগারের। জনগণের রুদ্রমূর্তির সামনে পুলিশ অসহায় হয়ে পড়ে।জেলার পুলিশ সুপার নাজিব-উর-রহমান জানিয়েছেন, জনগণ এমনই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিল যে খুনের পর নিগারের দেহ উদ্ধার করতে পর্যন্ত পুলিশকে বেগ পেতে হয়। তিনি বলেন, ‘একদল মানুষ লাঠি, রড দিয়ে পিটিয়ে নিগারকে মেরে ফেলে।’

স্থানীয় আরেক পুলিশ কর্মকর্তা উমাইর খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলী খান জানিয়েছেন, পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানান্তর করেছে। ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।জানা গেছে, ইমরানের ডাকে সমাবেশ হলেও সভায় ইমরান নিজে হাজির ছিলেন না। তবে তার দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো বিবৃতি জারি করা হয়নি। ইমরানও কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী আজম খান এ ঘটনার নিন্দা করেছেন এবং পুলিশকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, রাজনৈতিক সমাবেশের সময় বক্তাদের উচিত ধর্মীয় বক্তব্য এড়ানো এবং রাজনৈতিক ইস্যুতে ধর্মীয় স্পর্শ না দেওয়া। তিনি আলেমদের পরিস্থিতি শান্ত করতে তাদের ভূমিকা পালন এবং জনগণকে আইন হাতে তুলে না নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননা পাকিস্তানে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। সেখানে এমনকি অপ্রমাণিত অভিযোগও জনগণ ও সহিংসতাকে আলোড়িত করতে পারে।

সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিস অনুসারে, ১৯৮৭ সাল থেকে দুই হাজারেরও বেশি লোককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং অনুরূপ অভিযোগের জন্য অন্তত ৪৪ জনকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ