শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড় দুটোই কমেছে

প্রতিনিধির / ১৪৪ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩
বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড় দুটোই কমেছে
বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড় দুটোই কমেছে

বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড়– দুটোই অনেক কমে গেছে। গত জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় কমেছে ২১ শতাংশ। আর প্রতিশ্রুতি কমেছে ৪৩ শতাংশের বেশি।

এ অবস্থার জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ধীরগতিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। তাঁদের মতে, অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকা এবং অনুমোদন পর্যায়ে দেরির কারণে সময়মতো প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে অর্থাৎ গত জুলাই-মার্চ সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল গত এক যুগের মধ্যে সবচেয়ে কম।বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, অর্থনীতিতে এর নানামুখী অভিঘাত আছে। বাজেট সহায়তার অংশ তো সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চলে যায়। ডলার সংকটে এ ধরনের অর্থের এখন খুব বেশি প্রয়োজন। প্রকল্প সহায়তার অর্থ থেকে সরাসরি রিজার্ভে তেমন কিছু যোগ হয় না। উন্নয়ন সহযোগীদের ছাড় এবং প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার সামাজিক অভিঘাতটাও বেশ উদ্বেগজনক। বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন সন্তোষজনক না হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয়ের জোগানেও অর্থ সংকট দেখা দিতে পারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মাসে উন্নয়ন সহযোগী দেশ এবং সংস্থাগুলোর অর্থছাড় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪৪ কোটি ডলার কম। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা। গত ৯ মাসে অর্থছাড় হয়েছে ৫৩৬ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬৮০ কোটি ডলার। উল্লেখ্য, বর্তমানে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ সহায়তার প্রায় ৯০ শতাংশই ঋণ।একে তো অর্থছাড় কমেছে আবার আগামীতে বেশি অর্থ পাওয়া যাবে, সে আশাও কমে এসেছে। কারণ উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও কমিয়েছে। গত ৯ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৩০৮ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৪৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি কমেছে ২৩৫ কোটি ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যা ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সচিব আবুল কাশেম মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া সাশ্রয় পরিকল্পনার কারণেই মূলত অর্থ ব্যয় কম হয়েছে। এ সময় খরচের খাতে বিদেশ সফর, গাড়ি কেনা ও প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ব্যয় কিছুটা কম হয়েছে। আইএমইডির তথ্যমতে, মার্চ পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার ৪১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

ইআরডি সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি ১৩০ কোটি ডলার এসেছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার কাছ থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৬ কোটি ডলার এসেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আইডিএর কাছ থেকে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৮০ কোটি ডলার দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাকি অর্থ সহায়তা এসেছে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার পক্ষ থেকে।অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি কমলেও বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। মোট ১৭৩ কোটি ডলার সুদে-মূলে পরিশোধ করা হয়েছে গত ৯ মাসে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬০ কোটি ডলারের মতো। এর মধ্যে মূল ঋণ ১২৪ কোটি ডলার। আর ৪৯ কোটি ডলার ঋণের সুদ বাবদ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ