সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, বুধবারের মধ্যে ‘মোখা’য় রূপ নিতে পারে

প্রতিনিধির / ১৭৫ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩
সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে
সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে- দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তার আশেপাশে দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়েছে। একই এলাকায় সোমবার মধ্যরাতে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘণীভূত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুননেছা বলেন, ‘দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে দুদিন আগে একটি ঘূর্ণিচক্রের (সাইক্লোনিক সার্কুলেশন) সৃষ্টি হয়, যা লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। লঘুচাপ তৈরির পর সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ধাপ পেরিয়ে তবেই ঘূর্ণিঝড় হবে। আজ মঙ্গলবার এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর গতি-প্রকৃতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’ভারতীয় আবহাওয়া অফিস তাদের পূর্বাভাসে বলেছে, আজ মঙ্গলবার নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পেতে পারে ওই ঘূর্ণিবায়ুর চক্র। প্রথম দিকে উত্তর উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হলেও ১১ মে ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে বাঁক নিয়ে উত্তর উত্তর পূর্ব দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- রাজশাহী, নেত্রকোনা, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ এবং দেশের অন্যত্র মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আরও দুদিন এমন তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। শনিবারের পর থেকে তাপমাত্রা কমতে পেতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।বিশ্বের বিভিন্ন আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল বিশ্লেষণ করে কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখা ভোলা থেকে কক্সবাজার জেলার মধ্যবর্তী স্থান নিয়ে উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা আছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের অগ্রভাগ উপকূলে আঘাত শুরু করার সম্ভাব্য সময় ১৪ মে (রোববার) দুপুরের পর থেকে মধ্য রাতের মধ্যে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাব্য সময় ১৪ মে দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা। ঘূর্ণিঝড় মোখার পেছনের অর্ধেক অংশ উপকূলে অতিক্রম করার সম্ভাব্য সময় ১৫ মে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত। উপকূলে আঘাত করার সময় এটি অত্যন্ত তীব্র হতে পারে।’

এদিকে সাগরে যখন ঝড়ের জন্ম হচ্ছে, দেশের অধিকাংশ এলাকায় বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নামজুল হক বলেন, তিনটি কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। এক হচ্ছে এপ্রিল ও মে মাস দেশের উষ্ণ মাস। গত এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে। এ দুই মাসের বৈশিষ্ট্যের কারণেই এখন গরম বেশি। গরম হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হলো কম বৃষ্টি হওয়া। মে মাসের শুরুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু বৃষ্টি হলেও গত দুই দিন বৃষ্টি একেবারেই কম। আর এ কারণে গরম বাড়ছে। গরম বেড়ে যাওয়ার তৃতীয় কারণ হিসেবে নাজমুল হক সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কথা বলেন। তাঁর মতে, এখন সাগর থেকে হাওয়া আসছে না; বরং ভূপৃষ্ঠের হাওয়া সাগরের দিকে ছুটছে। আর এ কারণে গরম বেশি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ