মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন

বানারীপাড়ায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রতিনিধির / ১৬৬ বার
আপডেট : শনিবার, ২০ মে, ২০২৩
বানারীপাড়ায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়
বানারীপাড়ায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়

বরিশালের বানারীপাড়ায় বিশারকান্দি ইউনিয়নের কলাভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৩ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সাতটি পদ থাকলেও মাত্র তিনজন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন সহকারী শিক্ষক শারমিন পারভীনকে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁকে প্রশাসনিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। মাঝেমধ্যে তাঁকে প্রত্যন্ত জনপদের এ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সন্ধ্যা নদী পার হয়ে বানারীপাড়া উপজেলা সদরে শিক্ষা কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে যেতে হয়। অংশ নিতে হয় ট্রেনিং ও ক্লাস্টারসহ বিভিন্ন মিটিংয়ে। তখন তিনি ক্লাস নিতে পারেন না। বাকি দু’জন সহকারী শিক্ষককে সামলাতে হয় পুরো বিষয়। এতে পাঠদানসহ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

একই চিত্র বানারীপাড়া উপজেলার ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এসব বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া উপজেলার ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২ সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই সেগুলো হলো– উপজেলার পশ্চিম বিশারকান্দি, মধ্য পূর্ব বিশারকান্দি, মধ্য বিশারকান্দি, উত্তর বিশারকান্দি, উত্তর বিশারকান্দি বটতলা, দক্ষিণ বিশারকান্দি, কলাভিটা, দক্ষিণ পশ্চিম উমারেরপাড়, বলদিয়া ইলুহার, দক্ষিণ ইলুহার, মলুহার, মধ্য মলুহার, মলুহার বালীবাড়ী আদর্শ, পশ্চিম মলুহার, বড় করফাকর, নলশ্রী, তালাপ্রসাধ, পূর্ব সৈয়দকাঠী, পশ্চিম সৈয়দকাঠী, বাওয়ালিয়া, চাখার, সলিয়াবাকপুর এ রব, খোদাবকসা, দক্ষিণ বাইশারী, নাটুয়ারপাড়, কচুয়া রাড়ীপাড়া, পশ্চিম বাইশারী, গঙ্গামণি, তেতলা মধুরভিটা, উত্তর তেতলা, উদয়কাঠী ইউনিয়ন প্রগতি, ত্রিমুখী কদমবাড়ী মণ্ডলপাড়া, দিদিহার শেরেবাংলা, মধ্য সৈয়দকাঠী-১, উত্তর সৈয়দকাঠী ও পূর্ব উদয়কাঠী মহম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জানা গেছে, শহর এলাকায় স্কুলগুলোতে অবসরের কারণে পদ শূন্য হলে অন্য এলাকা থেকে বদলি হয়ে পদ পূরণ হয়। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলোতে অবসরে যাওয়ার পর পদ শূন্যই থেকে যাচ্ছে। তাই প্রতি বছরই বাড়ছে প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য স্কুলের সংখ্যা।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের পদগুলো ৬৫ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ ভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। আবার সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। তাই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা কমিটি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিশুদের শিক্ষার ভিত তৈরি হয়। তাই সেখানে পাঠদান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত সব জটিলতার অবসান প্রয়োজন।বরিশাল জেলা ও বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করা প্রয়োজন।

বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ বন্ধ থাকায় প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শুধু পাঠদানই নয়, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও অফিসিয়াল তথ্য দেওয়াসহ বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মামলাসহ যেসব জটিলতা রয়েছে তা দূর করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ