সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

অর্থবছর শেষ হতে চললেও এডিপি বাস্তবায়ন অর্ধেক

প্রতিনিধির / ১৫৫ বার
আপডেট : সোমবার, ২২ মে, ২০২৩
অর্থবছর শেষ হতে চললেও এডিপি বাস্তবায়ন অর্ধেক
অর্থবছর শেষ হতে চললেও এডিপি বাস্তবায়ন অর্ধেক

ডলার সংকটসহ নানা জটিলতায় বাড়ছে না প্রকল্প বাস্তবায়নের হার। চলতি অর্থবছরে এই ধারা পিছিয়েছে আরো অনেকটা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুযায়ী দুই লাখ ৩৬ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা খরচের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে এই অর্থবছরের ১০ মাস (জুলাই থেকে এপ্রিল) পার হলেও বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৫০.৩৩ শতাংশ।

টাকার অঙ্কে খরচ হয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাকি দুই মাসে খরচ করতে হবে এক লাখ ১৭ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। এপ্রিল মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। চলতি অর্থবছরের এপ্রিলের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।আইএমইডির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল পর্যন্ত ৫০.৩৩ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে, যা করোনার সময় ছাড়া গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের চেয়ে ৪.২৪ শতাংশ কম বাস্তবায়ন হয়েছে চলতি অর্থবছর। এমনকি শুধু এপ্রিলের বাস্তবায়নও গত অর্থবছরের তুলনায় ০.৮৮ শতাংশ কম হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছিল ৫৪.৫৭ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছর ৪৯.৯, ২০১৯-২০ অর্থবছর ৪৯.১০ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছর ৫৪.৯৪ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুধু এপ্রিলে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৮.৬৮ শতাংশ, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছিল ৯.৫১ শতাংশ।

চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং করোনার কারণে এবার এডিপি বাস্তবায়ন কিছুটা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই এডিপি আওতাভুক্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উচ্চ অগ্রাধিকার, অগ্রাধিকার ও কম অগ্রাধিকার হিসেবে বাছাই করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ কম হওয়ায় সেসব প্রায় স্থবির হয়ে আছে।

এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। এখন পর্যন্ত তাদের বাস্তবায়ন মোট বরাদ্দের ৯৭.৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে ৮৭.৪৬ শতাংশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ তৃতীয় সর্বোচ্চ, ৮২.৯৫ শতাংশ। আইএমইডি ৮০.৭৪ শতাংশ। তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ ৭৩.৮৫ শতাংশ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করেছে ৬২.৯৯ শতাংশ। এ ছাড়া সেতু বিভাগ ৬৮.৯১, বিদ্যুৎ বিভাগ ৬১.৩৮ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৬৫.০৯ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার সন্তোষজনক হলেও কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়ন কচ্ছপ গতিতে চলছে। ১০ মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৬.৫৪ শতাংশ। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ১৭.৪৮ শতাংশ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০.৯১ শতাংশ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেছে ২১.৯৩ শতাংশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ