বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে

প্রতিনিধির / ২২২ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০২৩
আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে
আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে

আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রথমবারের মতো বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে আগামী বাজেটে। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন বাবদ ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার নিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী ১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে পারেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’।জানা গেছে, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো কোনো পরিস্থিতি অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করলে তাৎক্ষণিক তা মোকাবিলায় নির্দিষ্ট খাত থেকে যাতে খরচ করা যায়, তার জন্য ফিসক্যাল বা আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো পরিস্থিতি এ বরাদ্দের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সামাল দেওয়া হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর বাড়ায় জ্বালানি ও কৃষি খাতে ভর্তুকি অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় মোকার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কয়েক কোটি টাকার চাহিদা পাঠিয়েছে। কিন্তু বাজেটে এসব খাতে বরাদ্দ না থাকায় অর্থ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তা ছাড়া চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ আগামীতে আরও সংকট বয়ে আনতে পারে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক কিংবা রাষ্ট্রীয় অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ দেশে হঠাৎ সৃষ্ট যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এ তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করবে।

কর্মকর্তারা জানান, অপ্রত্যাশিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো ঘটনা মোকাবিলায় চলতি বাজেটে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। আবার এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় অর্থ ছাড় করতে জটিলতা তৈরি হয়। তাই সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নামে নতুন খাতে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।এদিকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন বাবদ বাজেটে ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। বাজেট পাস হওয়ার পর নীতিমালা প্রণয়ন করে স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট জাতি গঠনের লক্ষ্যে তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা অর্জনে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

আগামী বাজেটে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাজেট ঘাটতি পূরণে মোট ১ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি; সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ২৩ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ