সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য ট্রেজারি বন্ড কেনা সহজ হচ্ছে

প্রতিনিধির / ১৭৯ বার
আপডেট : সোমবার, ৫ জুন, ২০২৩
সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য ট্রেজারি বন্ড কেনা সহজ হচ্ছে
সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য ট্রেজারি বন্ড কেনা সহজ হচ্ছে

ট্রেজারি বা সরকারি বন্ডের নিলামে যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সহজেই অংশ নিতে পারেন, তার উদ্যোগ নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। চাইলে শেয়ারবাজারের বিও অ্যাকাউন্টধারীরা ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে প্রাথমিক নিলামে অংশ নিয়ে ট্রেজারি বন্ড কিনতে পারবেন। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ট্রেজারি বন্ডের নিলামে কোনো সাধারণ বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করতেন না। কারণ এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম মডিউলে ইউজার আইডি বা বিপিআইডি থাকতে হয়। এখন ব্রোকারেজ হাউস একটি অমনিবাস বিপিআইডি খুলে গ্রাহকদের হয়ে ট্রেজারি বন্ডের নিলামে অংশ নিতে পারবে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো টাকা দিতে হবে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশের (সিডিবিএল) সঙ্গে আলোচনা করে এ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে।রেজাউল করিম আরও জানান, স্টক এক্সচেঞ্জে সেকেন্ডারি বন্ডবাজার সক্রিয় করতে গত বছরের শেষে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও সক্রিয় হয়নি। কারণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কারও কাছে ট্রেজারি বন্ড নেই। ব্যাংক, বীমাসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এ বন্ড থাকলেও তাঁরা এ বাজারে কেনাবেচা করেন না। নিলামে কিছু বিনিয়োগকারী বন্ড কিনলে তার মাধ্যমে বাজারটি সক্রিয় হতে পারে।

বর্তমান বিএসইসির নেতৃত্বে সক্রিয় বন্ড বাজার করতে নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ভালো কুপন রেটসহ করপোরেট বন্ড তালিকাভুক্ত হলেও এগুলোতেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই। এ অবস্থায় ট্রেজারি বন্ডে অপেক্ষাকৃত কম মুনাফার অফারে (কুপন রেট) বিনিয়োগ মিলবে কিনা– এমন প্রশ্নে রেজাউল করিম বলেন, সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। কেউ সুযোগ নেবে কিনা, তা আগাম বলা সম্ভব নয়।বিএসইসির অপর এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, নতুন উদ্যোগের ফলে একজন বিনিয়োগকারী ট্রেজারি বন্ডে প্রাথমিক নিলামে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা বা এর গুনিতক পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবেন। কবে নতুন ট্রেজারি বন্ডের প্রাথমিক নিলাম হবে, সে সংক্রান্ত তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জ তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। নিলামে অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরা নিলামের পরদিনই বিও অ্যাকাউন্টে বন্ড পেয়ে যাবেন।

বর্তমানে ট্রেজারি বন্ডের মূল বিনিয়োগকারী ব্যাংক, বীমাসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। তারা শেয়ারবাজারেও সক্রিয়। তাহলে এরা কেন সেকেন্ডারি বাজারে ট্রেজারি বন্ড কেনাবেচা করেন না– এমন প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা জানান, এখানে একই সঙ্গে দুটি ব্যবস্থা সক্রিয়। প্রথমত বাংলাদেশ ব্যাংকের সহজ ও দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থা। যেখানে ক্রেতা সঙ্গে সঙ্গে বন্ড এবং বিক্রেতা টাকা পান। কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জে টি+২ বা তিন দিনের লেনদেন নিষ্পত্তি করা হয়। অর্থাৎ টাকা বা বন্ড পেতে তিন দিন লাগে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, লেনদেন নিষ্পত্তির সময়ে বড় ‘গ্যাপ’ আছে। স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ড বিক্রি করে টাকা পেতে তিন দিন লাগলে, কখনোই এ বাজারে আসবে না। এটা বাস্তব সমস্যা। তবে এটাই প্রধান সমস্যা নয়। প্রধান সমস্যা হলো লেনদেন ফি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে এক টাকাও খরচ নেই। স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেনাবেচায় বড় অঙ্কের খরচ আছে।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির জারি আদেশ অনুযায়ী, ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন নিষ্পত্তির ফি শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা এবং ব্রোকারেজ ফি লেনদেন মূল্যের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ। অর্থাৎ ১ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কেনাবেচায় ১১ হাজার টাকা খরচ আছে।লেনদেন ফি-সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, ব্রোকারেজ ফি না রাখা হলে ব্রোকাররা বন্ড কেনাবেচায় নিরুৎসাহিত হবেন ভেবে ফি ধার্য করা হয়েছে। তার পরও এটা কমানো যায় কি-না, তা চিন্তা করা হচ্ছে।

রেজাউল করিম বলেন, ফি থাকা সত্ত্বেও আমাদের জানা মতে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ট্রেজারি বন্ডের কিছু বিনিয়োগ চাহিদা আছে। কিন্তু যাদের কাছে এ বন্ড আছে, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে তারা স্টক এক্সচেঞ্জে বিক্রি করতে চায় না। কোনো ব্যাংক স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করতে চাইলে প্রথমে বিপিআইডি থেকে বিও অ্যাকাউন্টে বন্ড আনতে হবে। এতে অন্তত একদিন সময় লাগে। ফলে পরদিন বিক্রির আদেশ দিলে এবং তা বিক্রি হলেও টাকা পেতে চার দিন। এ সময়ে ব্যাংক আর্থিক মূল্য পায় না। যার কারণে কেউ এ পদ্ধতিতে আসতে চায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ