বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

ছাড় দিয়েও বান্দরবানে পর্যটকের সাড়া নেই, হতাশ ব্যবসায়ীরা

প্রতিনিধির / ১৮৩ বার
আপডেট : বুধবার, ২৮ জুন, ২০২৩
ছাড় দিয়েও বান্দরবানে পর্যটকের সাড়া নেই, হতাশ ব্যবসায়ীরা
ছাড় দিয়েও বান্দরবানে পর্যটকের সাড়া নেই, হতাশ ব্যবসায়ীরা

‘পাহাড়কন্যা’খ্যাত প্রাকৃতিক ভূস্বর্গ বান্দরবানে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র চিম্বুক, শৈলপ্রপাত, নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেকসহ আশপাশের সবগুলো স্পট ঈদ উপলক্ষে খোলা রয়েছে। স্পটগুলো বছরজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত থাকে। কিন্তু গত অক্টোবর থেকে এ জেলায় আশানুরুপ পর্যটক না আসায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত এই জেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

বান্দরবান পর্যটন কর্পোরেশনের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সূর্য সেন ত্রিপুরা জানান, বান্দরবানে তিন উপজেলা রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানছি ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকশূন্য। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে যারা ঘুরতে আসবেন তাদের জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্টসহ পরিবহনে পরিপূর্ণ সুবিধা তারা পাবেন বলে জানান তিনি।পর্যটন শিল্পে জড়িত ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের দিকে জেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১৭ অক্টোবর রুমা, রোয়াংছড়িতে দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্থানীয় প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞা কয়েক দফায় বাড়িয়ে রুমা, রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও থানচি উপজেলায়ও আরোপ করা হয়। পরে আলীকদম উপজেলা থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় এখনো নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এরই মধ্যে সন্ত্রাস দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানে সেনবাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাসহ নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

ধারণা করা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা জনিত কারণে জেলার তিন উপজেলা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পর্যটকেরা বান্দরবান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে জেলার পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ক্ষতি পোষাতে না পেরে হোটেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। হোটেল নীলাদ্রি’র কর্ণধার সুজন দাশ তাদেরই একজন। তিনি বলেন, ‘ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় হোটেল ব্যবসা প্রচণ্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আর পারছি না। হোটেলটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’হোটেল হিলটনের ব্যবস্থাপক আক্কাস উদ্দিন জানান, সাধারণ ছুটির দিনেও হোটেলের অধিকাংশ রুম এবং বিশেষ ছুটির দিনের অন্তত ১৫ দিন আগে হোটেলের রুম বুকিং নিতেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা। গত ঈদ মৌসুমেও ভালো সাড়া ছিল। কিন্তু এবার ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়লেও পর্যটকের সাড়া নেই।

হোটেলের ১০ শতাংশ রুমও বুকিং হয়নি বলে জানান তিনি।হোটেল হিলভিউ’র ম্যানেজার তৌহিদ পারভেজ জানান, সারা বছর এই ঈদ মৌসুমে ব্যবসার জন্য তারা অপেক্ষায় থাকেন। অন্যান্য বছর যেখানে ঈদের ১০-১৫ দিন আগে থেকে শতভাগ বুকিং হয়ে যেত, এ বছর ৮ শতাংশ রুমও বুকিং হয়নি।

বান্দরবানের তিন উপজেলায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে জেলার পর্যটন শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তার আশঙ্কা।বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জেলায় পর্যটকের উপস্থিতি অনেক কম। পর্যটক আকর্ষণে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। যেমন বান্দরবান সদরে যারা ভ্রমণ করবেন তাদের জন্য আবাসিক হোটেলগুলোতে ক্ষেত্র বিশেষে ২০-৩০ শতাংশ ছাড় দেয়া হবে।

বান্দরবান জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাছিরুল আলম বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বান্দরবান ভ্রমণপ্রত্যাশীদের জন্য প্রত্যেক গাড়িতে ১০ শতাংশ ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলা ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত থাকলেও বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ভ্রমণে বাধা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ