হামের নিষ্ঠুরতা, দুঃস্বপ্নে দিন কাটাচ্ছেন বাবা-মায়েরা

হামের এই প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটতে পেরেছে সরকার এবং প্রশাসনের অদূরদর্শিতার কারণে। হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের বাবা-মায়েরা নিদারুণ দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে টিকা ক্রয় করার ব্যাপারে যে অপরিণামদর্শী কাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় বিপাকে পড়েছে দেশের হাজার হাজার পরিবার, সে রকমটাই মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।

জাতিকে এ রকম একটি দুঃসময় ‘উপহার’ দেওয়ার জন্য কে বা কারা দায়ী, সেটি অবশ্যই খুঁজে বের করা জরুরি। একইভাবে এটাও জরুরি, এই মুহূর্তে কোন পথে হামে আক্রান্ত অসহায় শিশুদের বাঁচানোর উপায় খুঁজে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে নিরলস কাজ করা। প্রতিটি পরিবার হামে আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে কীভাবে দিনযাপন করছে, তা উপলব্ধি করতে না পারলে তা হবে হৃদয়হীনতার উদাহরণ। সে রকম নৈর্ব্যক্তিক হৃদয়হীনতার প্রকাশ যেন না ঘটে।

কেন এই টিকার সংকট হলো, সে বিষয়েও অনেক কিছু এখন সাধারণ জনগণের কানে আসছে। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনার বাসনা করায় এই দুর্যোগ নেমে এসেছিল বলে জানিয়েছেন ইউনিসেফের একজন প্রতিনিধি। সে সময় ইউনিসেফ এবং তাদের অংশীদারেরা উদ্বেগ জানিয়ে বলেছিল, এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক ক্রয়প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হবে। এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এই সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহে দেরি হয়। অর্থছাড়ে বিলম্ব এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। কারণ, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন করা যায়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফকে বরাদ্দ দেওয়া অর্থও ছাড় করতে পারেনি।

শিশুরা টিকা কেন পাচ্ছে না এবং কী কারণে তারা মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে, সেটি তদন্ত করার মাধ্যমে জানা যাবে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে টিকার ব্যাপারে কোনো গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেটাও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখতে হবে। তবে টিকা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সাফল্যের পাল্লা ভারী বলেই শোনা যায়। কার কার অবহেলায় এই পরিস্থিতির উদ্ভব হলো, সেটি অবশ্যই জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং দোষী ব্যক্তিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কোনো সরকারকে কেউ দেয়নি।

আমরা শৈশব থেকেই কিন্তু জেনে এসেছি, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সেই ভবিষ্যৎ রক্ষা করার দায়ভার যাঁদের ওপর বর্তায়, তাঁরা যেন শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিচক্ষণতার পরিচয় দেন এবং শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে, এ রকম পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি থাকেন। সরকারের গাফিলতি কিংবা অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের কারণে কোনো শিশু যেন মৃত্যুমুখে পতিত না হয়, তা নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়।

হাম নিয়ে যে নিষ্ঠুরতা হয়েছে, সেটির যেন পুনরাবৃত্তি আর কখনো না হয়। আর সেই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিরা যেন শাস্তি পায়, সেটাও নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত দিন

Divider Icon
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...
শিরোনাম
বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ৭ জুন ভোট কৃষকদের উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী উন্নত প্রযুক্তিতে দক্ষ চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশিদের ফেলছে জুয়ার ফাঁদে জাবিতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পবিপ্রবিতে হামলা: বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা যেসব অঞ্চলে রাতে হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি রোববার থেকে বিআরটিসির অগ্রিম টিকিট দেশে ভোটার বাড়ল আরও ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন আমিরাত উপকূল থেকে জাহাজ জব্দ, নেওয়া হচ্ছে ইরানের জলসীমায় স্ত্রী-মেয়েসহ ৫ খুন, পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে ঘাতকের আত্মহত্যা বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ৭ জুন ভোট কৃষকদের উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী উন্নত প্রযুক্তিতে দক্ষ চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশিদের ফেলছে জুয়ার ফাঁদে জাবিতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পবিপ্রবিতে হামলা: বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা যেসব অঞ্চলে রাতে হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি রোববার থেকে বিআরটিসির অগ্রিম টিকিট দেশে ভোটার বাড়ল আরও ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন আমিরাত উপকূল থেকে জাহাজ জব্দ, নেওয়া হচ্ছে ইরানের জলসীমায় স্ত্রী-মেয়েসহ ৫ খুন, পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে ঘাতকের আত্মহত্যা