হাসপাতালে ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার দিবাগত রাতে মারা গেছেন মঞ্চসারথি নাট্যজন আতাউর রহমান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি স্ত্রী এবং এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। আতাউর রহমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।
শর্মিষ্ঠা রহমান জানান, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আতাউর রহমানের মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। বাদ জোহর দাফনের প্রস্তুতি চলছে। বনানী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হতে পারে।
গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে প্রথমে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। পরে হাসপাতাল পাল্টে তাঁকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। কিছুটা শারীরিক উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে ফের তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সোমবার দিবাগত রাত ১টায় তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন আতাউর রহমানকে।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। বাংলাদেশের নাট্যজগতে এক অনবদ্য নাম। একাধারে তিনি অভিনেতা, নির্দেশক ও লেখক। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকটির মাধ্যমে নাট্যনির্দেশক হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। আতাউর রহমান নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নির্দেশিত নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নাটক ‘রক্তকরবী’ বাংলাদেশের মঞ্চনাটকে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল।
এ ছাড়া ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা’, ‘এখন দুঃসময়’ ও ‘অপেক্ষমাণ’-এর মতো নাটকগুলোও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া নাটক নিয়ে লেখালেখিও করেছেন।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটসহ নানা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আতাউর রহমান পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।