⇒ ২ হাজারের বেশি নিখোঁজ
⇒ আট মাসে ধর্ষণের শিকার ৩২৯
⇒ নির্যাতনে মৃত্যু ২৫৪ শিশুর
কোমলমতি শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার কথা সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের, সেখানে তাদের দিন কাটছে উল্টো ভয় ও অজানা আতঙ্কে। দেশে প্রায় প্রতিদিনই শিশু নিখোঁজের ঘটনা সামনে আসছে।
আবার অন্তর্বর্তী সরকারের টিকাদান কর্মসূচির অব্যবস্থাপনার মাশুল দিতে হচ্ছে ছোট শিশুদের। হামের প্রাদুর্ভাবে একের পর এক মা-বাবার কোল খালি হচ্ছে। সবমিলিয়ে শিশুদের নিরাপদে রাখাটাও এখন দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশের সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জনের এখনো সন্ধান মেলেনি। এই সময়ে নিখোঁজ ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয় বা পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিখোঁজ শিশুদের ১৩ শতাংশের সন্ধান এখনো মেলেনি।
পুলিশের তথ্যে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। আর ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজে জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। এদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন।
পুলিশের ভাষ্যে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবার থেকে অর্থ আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ অন্যতম কারণ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মোট ৩২৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এদের মধ্যে ৫২টি ছেলে শিশু আর কন্যা শিশু ২৭৭ জন। ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, গৃহকর্মী নির্যাতন, আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন কারণে মোট ২৫৪ শিশুর মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে ৫৩ শিশুকে শিক্ষক নির্যাতন করে। ৩৮ শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়। শারীরিক সহিংসতার শিকার ৩৫ শিশু। ২৪ জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ৩৬ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে ২১ হাজার ৮০৮ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাম সন্দেহে মারা গেছে ১ হাজার ২৬ শিশু। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০২ শিশুর।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনায় এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় দেশের টিকাদান কর্মসূচি কার্যত ভেঙে পড়ে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান সাংবাদিকদের বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তিরা শিশুদের ওপর বিকৃত যৌন নির্যাতন চালায়। শিশুরা এখন ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। শিশুপর্নো দেখে সমাজে বিকৃত রুচি তৈরি হয়েছে। যার শিকার হচ্ছে অবলা শিশুরা।
তিনি আরও বলেন, ছোট শিশুরা কোথাও নির্যাতিত হলে তারা অভিভাবকদের সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেয়। এজন্য যখন কোনো শিশু বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তখন তারা ঘটনাটি বলে দিতে পারে এই আশঙ্কায় অপরাধীরা তাদের মেরে ফেলে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন