মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে চলতি সপ্তাহে দোহায় পরোক্ষ এক কূটনীতিক বৈঠক করবে।
সোমবার (১৫ জুন) এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক বলেন, সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর এবং কারিগরি আলোচনা শুরুর আগে চলতি সপ্তাহে দোহায় উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথক প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্রটি আরও জানায়, রবিবার শুরু হওয়া এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া ১৭ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনার পর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ছেড়ে গেছেন। যদিও চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো যায়নি।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরে আলোচনা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটিকে ‘শান্তির পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্ক, ইরাকি এবং মিশরীয় সমকক্ষদের বলেছেন। তিনি লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে এবং যুদ্ধ শেষ করার কাঠামো চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর ইরানের দখলের প্রতিশোধ হিসেবে এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, সবাইকে অভিনন্দন। আমি হরমুজ প্রণালী টোলমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ারও অনুমোদন দিচ্ছি।
সূত্র: এএফপি।