চলতি সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার হামলার বদলা নিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিজের শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে সরাসরি পুতিনের জন্মস্থানে বড় ধরনের আঘাত হানল কিয়েভ।
রাশিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গসহ তাদের এক ডজনেরও বেশি অঞ্চলে প্রায় ৪০০ ড্রোন ছুড়েছে ইউক্রেন। চলতি সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় ৩০ জন এবং সুমিতে এক শিশুসহ ৪ জন নিহত হন। মূলত এর বদলা নিতেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের ড্রোন সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেলের টার্মিনাল এবং ফিনল্যান্ড সীমান্তের কাছের একটি বন্দরে আঘাত হেনেছে। ড্রোন পড়েছে ঐতিহাসিক পিটারহফ প্রাসাদের ওপরও। তবে রাশিয়া বলছে, এতে কোনো ক্ষতি হয়নি। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেছেন, তারা সেন্ট পিটার্সবার্গের নৌ ঘাঁটিতেও সফল হামলা চালিয়েছেন।
টানা এই ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। বেলগোরোদ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কালিনিনগ্রাদে বিমান চলাচলে দেরি হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোতে হামলার কারণে রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া মস্কোমুখী ৬২টি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে রাশিয়া। হামলায় ব্রায়ানস্ক ও ক্রাইমিয়ায় দুজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকা দখলের দাবি করেছে মস্কো। খোদ পুতিন এর জন্য সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে এই দাবিকে স্রেফ ‘মিথ্যা’ বলেছেন জেলেনস্কি।
তিনি জানান, সেখানে এখনো তীব্র লড়াই চলছে। শহরটি সত্যিই রাশিয়ার দখলে থাকলে পুতিনকে সেখানে বসে যুদ্ধ থামানোর আলোচনা করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের নেতা। তবে পুতিন আলোচনা নাকচ করে দিয়েছেন।