বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তাঁর অফিস কক্ষে ইইউর আন্তর্জাতিক বিষয়ক, রিটার্ন ও ভিসা সংক্রান্ত পরিচালক এবং ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মহাপরিচালক হেনরিক নিলসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অনিয়মিত অভিবাসন রোধে যৌথভাবে গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইইউ। বৈঠকে মাইকেল মিলার, আলেকজান্দ্রা ডোমানস্কাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালীকরণ এবং স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনারের আসন্ন বাংলাদেশ সফরসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে হেনরিক নিলসেন মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। তবে গত চার মাসে সময়োচিত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে সার্বিক পরিস্থিতির সন্তোষজনক উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের মানবাধিকার কমিশন গঠনে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
মাইগ্রেশন ও মোবিলিটি ডায়ালগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং সব ধরনের অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ২০১৭ সালের ইইউ বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
এ সময় ইইউর নতুন অ্যাসাইলাম অ্যান্ড রিটার্ন বর্ডার প্রসিডিউর নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
হেনরিক নিলসেন নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিরাপত্তা খাতের সংস্কারে ইইউর সহযোগিতার কথাও জানান তিনি।
বৈঠকে আগামী অক্টোবর মাসে ইইউর হোম অ্যাফেয়ার্স কমিশনার ম্যাগনাস অসওয়াল্ড ব্রুনারের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ এ সফরকে স্বাগত জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।