বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছেন জোটের নেতারা।
তবে গেল কয়েক মাস ধরে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে নতুন জোট গঠনে বৈঠক করে ৭টি ইসলামী দল। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সমমনা ইসলামী দল নামে জোট গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানায় হেফাজতে ইসলাম।
নতুন জোটের বিষয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান জানান, ‘এই সাত দলের মধ্যে যারা অন্য জোটে রয়েছেন, তারাও সেই জোট থেকে আমাদের সঙ্গে এককভাবে চলে আসবেন।’
এমন বাস্তবতায় নতুন এই জোট গঠনকে ১১ দলীয় ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন ১১ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি জানান, সরকার এই জোট ভাঙতে চাইছে। কারণ, জোট অটুট থাকলে জনগণ যেভাবে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছে এবং জোটের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাড়া দিচ্ছে, তাতে সরকার আসলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। দেখা যাচ্ছে, আন্দোলনের মাধ্যমে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিজেদের পতনের ধ্বনিও শুনতে পাচ্ছে বর্তমান সরকার। হেফাজতের যে ধর্মীয় মোর্চা বা জোট রয়েছে, সেটিকে ব্যবহার করে সরকার এই খেলাটি খেলাচ্ছে। সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন, যারা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন, তারা বুঝেশুনেই আমাদের সঙ্গে আছেন।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের কণ্ঠেও ছিল একই অভিযোগ। তার দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে ১১ দল।
অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমেদ জানান, হেফাজতে ইসলামের নেতাদের ওই জোটগুলো ছেড়ে আসার আহ্বান তারা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অনেক কথাবার্তা হলেও শেষ পর্যন্ত জোট ছাড়া বা না ছাড়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এবং নিজাম ইসলাম পার্টি ১১ দলীয় ঐক্যের এই জোটে আছি। এগারো দলীয় জোটের মূল লক্ষ্য হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।’