পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল নরওয়ে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দেয় ইউরোপের দলটি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৯০ সালের ইতালি আসরের পর এই প্রথম শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিলো ব্রাজিল। এরপর টানা আটটি বিশ্বকাপে ব্রাজিল অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে দিলো নরওয়ে। শেষ ষোলোর বাধাই পেরোতে না পারায় দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আবারও এত দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে।
প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ পেলেও কোনো দলই তা কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের শুরুতেই নরওয়ের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয।
অন্যদিকে ১৫ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। সেই মুহূর্তটিই পরে ম্যাচের বড় মোড় হয়ে দাঁড়ায়। বিরতির পরও ম্যাচে খুব বেশি ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল।
ধৈর্য ধরে থাকা নরওয়ে ৭৫ মিনিটে হালান্ডের তৈরি করা সুযোগ থেকে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এরপর ৭৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের ভাসিয়ে দেওয়া দারুণ ক্রসে বক্সের ভেতর উঁচুতে লাফিয়ে শক্তিশালী হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন হালান্ড।
এদিকে গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। ৮৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের কর্নার থেকেও কোনো লাভ হয়নি। ব্রাজিল যখন মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখনই যোগ হয় আরও এক দুঃস্বপ্ন। ৮৯ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে হালান্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করে নরওয়েকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এবং কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।
তবে যোগ করা সময়ে শেষবারের মতো ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ব্রাজিল। কাসেমিরোকে বক্সের ভেতরে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি দেন রেফারি। সেই সুযোগ থেকে ১০০তম মিনিটে গোল করেন নেইমার।
নেইমারের গোলে ব্যবধান ২-১ হলেও শেষ মুহূর্তে আর সমতায় ফিরতে পারেনি ব্রাজিল। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ২-১ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় নরওয়ে। অন্যদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় নিতে হয় শেষ ষোলোর বাধাতেই।