শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৮:০২ অপরাহ্ন

বরগুনায় নদী ভরাট করে ইটভাটা, জানে না উপজেলা প্রশাসন

প্রতিনিধির / ৯ বার
আপডেট : রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২
বরগুনায় নদী ভরাট করে ইটভাটা, জানে না উপজেলা প্রশাসন
বরগুনায় নদী ভরাট করে ইটভাটা, জানে না উপজেলা প্রশাসন

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচকি ফেরিঘাট এলাকায় বিষখালী নদী দখল করে দুটি ইটভাটার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে নদীতে জেগে ওঠা চরের একাধিক স্থান। অথচ বিষয়টি এখনো জানে না উপজেলা প্রশাসন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ইটভাটা দুটির স্বত্বাধিকারী জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক। ইট পোড়ানো মৌসুম ছাড়াও সারা বছর ইট-সুরকির টুকরা ফেলে নদী ভরাট করছে তাঁর লোকজন। এতে নদীর জোয়ার-ভাটার স্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ভাঙনের মুখে পড়েছে নদীতীর।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আরএসবি ব্রিকস-১ ও আরএসবি ব্রিকস-২ নামের ইটভাটা দুটির পরিধি বাড়াতে ইট, মাটি ও বালু ফেলে বিষখালী নদী ভরাট করা হচ্ছে। ভাটার পশ্চিম পারে নদী ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে জেটি। আরএসবি-২ ব্রিকসের পূর্ব পাশে নদীর চরে ইট-সুরকি ও মাটি ফেলা হয়েছে। উত্তর পাশে নদীর ভেতরে অন্তত ৫০ ফুট পর্যন্ত ইটভাটা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ওই এলাকায় নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বরইতলা-বাইনচকি এলাকার খেয়াচালক মো. আসলাম বলেন, একসময় এই স্থানে তীব্র স্রোত ছিল। আর এখন কোনো স্রোতই নেই। এখন ভাটার সময় সহজেই এপার-ওপার সাঁতরে পার হওয়া যায়।বাইনচকি এলাকার বাসিন্দা মোখলেচুর রহমান বলেন, ইটভাটা কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর নদীর তীর ভরাট করছে। যতটুকু চর জাগে তা ভরাট করে দখলে নিয়ে নেয় তারা।

আরএসবি ব্রিকস নামের ইটভাটা দুটির ব্যবস্থাপক মো. মনির দাবি করে বলেন, ‘এখানে রেকর্ডীয় জমি কিনে আমরা ইটভাটার জায়গা বাড়াচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার এসে জমি মেপে সীমানা দিয়ে গেছেন। আমরা ওই সীমানার মধ্যেই ভরাট করছি। ’ইটভাটা মালিক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা কোনো নদীর জায়গা দখল করছি না। ব্যক্তিমালিকানা জমিতে আমি ভাটা করেছি। এখানে কোনো সরকারি জমি নেই। উপজেলা প্রশাসক আমাদের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমরা সীমানার মধ্যেই আছি। ’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, ‘কোনোভাবেই নদীর তীর দখল বা ভরাট করা যাবে না। এতে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত হয়। এভাবে ইটভাটার পরিধি বাড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। ’এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিএ) বরগুনা নদীবন্দরের কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, ‘নদী ভরাট করে ইটভাটা সম্প্রসারণ করার বিষয়টি আমার জানা নেই। ’পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘নদীর চর দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ