স্কুলে পড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাছের সঙ্গে বেঁধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (৩২) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এ ঘটনায় রাজীব (২৫) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক রাজীব একই গ্রামের মোফাজ্জল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী তাঁর নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ওই গ্রামের একটি দালান বাড়িতে বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে একই গ্রামের রাজীব (২৫), ফাহিম (২০), এনামুল (২২), শরীফ (২২) ও আরিফ (২০) ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা প্রথমে গৃহবধূর ছেলেকে ঘরের বাইরে একটি কাঁঠালগাছের সঙ্গে বেঁধে চাকু ও চাইনিজ কুড়াল দেখিয়ে জিম্মি করেন। পরে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় রাজীব তাঁর মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ঘটনা কাউকে জানালে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, ঘটনার একপর্যায়ে ছেলেটিকে পাশের একটি কক্ষে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি এলাকায় মাইকিং করে জানানো হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁর ছেলেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতের শেষ দিকে রাজীবকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজন হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই।গৃহবধূর স্বামী ও তাঁর ভাই বিদেশে থাকেন। তিনি ছেলেকে নিয়ে থাকেন। ঘরে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিল। ঘটনায় জড়িত সবাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে আমরা জানি। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, ‘ঘটনা জানতে ভুক্তভোগী ও তাঁর ছেলেকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’