নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয়শর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর নিখোঁজ আছেন প্রায় তিন হাজার।
মরদেহ খুবই দ্রত পঁচতে থাকায় এবং মর্গের জায়গা কমে আসায় নেপালের চিতাওয়ান জেলায় থাকা মরদেহগুলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্রস্থানে গণকবর দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চিতাওয়ানের স্থানীয় কর্মকর্তারা শনিবার (২৯ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ বিকাল থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শহর দেবঘাটের নদীর পাড়ে মরদেহগুলো সমাহিত করা শুরু হবে।
জেলার প্রধান কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল বলেছেন, চিতাওয়ানে ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে মাত্র চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যেহেতু বাকিগুলোর পরিচয় শনাক্ত হয়নি তাই সেগুলো কেউ নিচ্ছেনও না।
এরমধ্যে মরদেহগুলো পঁচতে শুরু করায় তারা সেগুলো গণকবরে সমাহিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরআগে সবগুলো মরদেহের ডিএনএ সংগ্রহ করে রাখা হবে যেন পরবর্তীতে তাদের শনাক্ত করা যায়।
হিন্দু ধর্মে মরদেহ দাহ করাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে বন্যায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, পরবর্তীতে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা যেন তাদের প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু দেখতে পান সেজন্য এগুলো এখন সমাহিত করা হবে।
নেপালের পার্লামেন্টের এক সদস্য সিএনএনকে এর আগে বলেছিলেন, বর্তমানে মরদেহ শনাক্ত করা তাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ মরদেহগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ এবং এগুলো কাঁদায় চাপা পড়ে বিকৃত হয়ে গেছে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির কান্নাল বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে মরদেহ সংগ্রহের জন্য ফ্রিজার সাহায্য চেয়েছেন তারা। যেন মরদেগুলো সেখানে সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করা যায়।
সূত্র: সিএনএন