ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সাথে হুতি বিদ্রোহীদের ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার তীব্র লড়াইয়ে ৮০ জনেরও বেশি হুতি যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে হুতিদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে এবং অনেক বিদ্রোহী যোদ্ধা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
সংঘাতের বিস্তারিত
রবিবার ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সামরিক গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত মারিবের দক্ষিণাঞ্চলীয় হারেরব, মালা এবং উম রাইশ এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তুমুল লড়াই চলে। সরকারি বাহিনী আকাশপথ ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে হুতিদের আক্রমণ প্রতিহত করেছে।
মারিবের গুরুত্ব ও সামরিক পরিস্থিতি
ইয়েমেনের জ্বালানি সমৃদ্ধ মারিব অঞ্চলটি তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া গত এক দশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল এই শহর। হুতিরা দীর্ঘ সময় ধরে শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে, যদিও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের অভিযান কমে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে।
হতাহতের সংখ্যা ও অন্যান্য ফ্রন্ট
সেনাবাহিনীর দাবি, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আল-হাতেমির মতে, হুতিরা নিজেদের মনোবল টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিনের বিপুল নিহতের সংখ্যা গোপন করছে। অন্যদিকে, হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে গত শনিবার অন্তত ৫০ জন যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এছাড়া সরকারি বাহিনী পার্শ্ববর্তী নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে, যা সেনাবাহিনীর সামরিক অগ্রগতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।