ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত দুই দিনের টানা লড়াইয়ে দেশটিতে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাত ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাইজ, আল-জাওয়াফ এবং সা’দা অঞ্চলে সৌদি জোটের বিমান হামলা, সরাসরি সংঘর্ষ এবং কামানের গোলার আঘাতে ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে ৩৬ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। দুই পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়ে গেছে।
হুথি বিদ্রোহীদের দমনে মার্কিন বিমান বাহিনী অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেছেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধে ট্রাম্প এই বিমান অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
অভিযানের প্রস্তুতি এতটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল যে, মার্কিন বিমানগুলোতে প্রয়োজনীয় বোমা ও গোলাবারুদ লোড করা হয়েছিল। কিন্তু বিমানগুলো উড্ডয়নের ঠিক আগ মুহূর্তে হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্প সরাসরি অভিযান বাতিলের নির্দেশ দেন। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে সেন্টকমের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। রয়টার্স হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানান।