গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো পৃথক দুটি হামলায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গাজা সিটির পান্ডামল এলাকার কাছে সংঘটিত প্রথম হামলায় চারজন নিহত হন এবং পরবর্তীতে গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলীয় তুফাহ এলাকায় আরেকটি হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি মারা যান।
হামলার কারণ ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের এই অভিযানগুলো নির্দিষ্ট করে সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে। তবে এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তারা প্রকাশ করেনি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অমীমাংসিত যুদ্ধবিরতি
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যকর করতে গিয়ে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই পক্ষ কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এই বিরোধই বর্তমান পরিস্থিতির অবনতির মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হলেও হামাস তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্টো তাদের দাবি, ইসরায়েল নিজেই শান্তি চুক্তির শর্তগুলো লঙ্ঘন করছে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, এই বিবদমান পরিস্থিতির মধ্যেই গাজায় প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।