গত কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও যাতায়াত করতে হচ্ছে নৌকাযোগে। তবে নৌকাও অপ্রতুল হওয়ায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন মানুষ। কেউ কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারলেও বেশিরভাগ মানুষই বাসাবাড়িতে অটকা পড়েছেন। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
জেলার প্রায় সবকয়টি উপজেলা এখনও কমবেশি বন্যা কবলিত। এর মধ্যে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া উপজেলায়। এখানকার অনেক এলাকার সড়কে হাঁটু থেকে বুক সমান পানি। বেশিরভাগ বাড়ির নিচতলা পানিতে ডুবে গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ত্রাণ বিতরণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। যতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে বন্যা কবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ কয়েকটি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।