পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাট, হাঙ্গু ও থাল অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর জোরালো স্থল অভিযান এবং আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় চালানো বিমান হামলায় মোট ৩৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেশটির সংবাদমাধ্যম সামা টিভি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অভিযানের বিস্তারিত
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোহাট ও হাঙ্গু জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনী। এই স্থল অভিযানে নয়জন সন্ত্রাসী নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন। এরপরই আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্প লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় সন্ত্রাসীদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস
নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যমতে, ধ্বংস হওয়া লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে আত্মঘাতী বোমারুদের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই কেন্দ্রে অবস্থানরত একাধিক আত্মঘাতী বোমারুসহ মোট ২৮ জন সন্ত্রাসী বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
ভিন্নমত ও প্রতিক্রিয়া
তবে এই হামলা নিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে ভিন্নধর্মী তথ্য উঠে এসেছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ২৮ জন সন্ত্রাসী নিহতের কথা বললেও, আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন। যদিও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের ভাষ্যমতে, আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে তাদের দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি তৈরি করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই এই সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।