ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক তীব্র সামরিক অভিযানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী।
আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনীর দাবি, চলমান ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে চালানো পৃথক পাঁচটি সামরিক অভিযানে অন্তত ১০০ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষে আরও ১৫০ জন বিদ্রোহী আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত ও কৌশলগত সাফল্য
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তাইজ সামরিক অক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রদেশটির বিভিন্ন ফ্রন্টে এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। সরকারি বাহিনীর দাবি, অভিযানে হুতিদের অন্তত ছয়টি সামরিক যান ও একটি ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আকাশসীমায় হুতিদের পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। কৌশলগত দিক থেকে এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে দক্ষিণ তাইজের জাবাল আল-মানজারা, আল আশরিফ এবং ধিবান এলাকা বিদ্রোহীদের দখলমুক্ত করে পুনরায় সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অভিযানের লক্ষ্য ও প্রেক্ষিত
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি সোমবার এই ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের সূচনা করেন। রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, রাজধানী সানা পুনরুদ্ধার, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হুতিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশটিকে মুক্ত করাই এই সামরিক কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর মোকা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দাব এলাকা পুনরায় নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।
বিদ্রোহীদের প্রতিক্রিয়া ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট
তবে সরকারি বাহিনীর এই দাবিগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। উল্টো তিনি দাবি করেছেন যে, হুতিরা তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে এবং সৌদি বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে হতাহত করা হয়েছে। যদিও সৌদি আরব বা তাদের নেতৃত্বাধীন জোট এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা ২০১৫ সালে সৌদি জোটের হস্তক্ষেপের পর আরও জটিল রূপ নেয়। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গত জুলাই থেকে তাইজ ও হুদাইদা অঞ্চলে সংঘর্ষের তীব্রতা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে।