চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের ওপর আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে শুনানির আগে কারাগার থেকে ডনকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট আদালতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ডনের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে সালমান শাহ হত্যার বিচার দাবিতে আদালত চত্বরে মানববন্ধন করেছেন তার ভক্তরা। দুটি ব্যানার নিয়ে সকাল থেকে ভক্তরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ভক্তদের ব্যানারে ‘প্রিয় নায়ক ৩০ বছর ধরে কবরে, তার খুনিরা কেন বাইরে?’- এমন প্রশ্নসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রধান আসামি সামিরা, আজিজ, লুসি, রিজভী ও পলাতক অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতার আসামি ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সালমান শাহর মৃত্যুর নেপথ্যে যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
আরেক অংশগ্রহণকারী মৌসুমী হক বলেন, ‘ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনতে হবে। ন্যায়বিচারের জন্য এক নম্বর আসামি সামিরাসহ অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’
তিন কারণে রিমান্ড চায় সিআইডি
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান গত ২৪ আগস্ট ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে সিআইডি তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে। তদন্ত সংস্থার দাবি, ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এছাড়া তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কীভাবে, কেন এবং কার ইন্ধনে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য বের করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সিআইডি।