চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ অগাস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
গত ২০ আগস্ট সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান এ রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত আজ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে সিআইডির হাতে সোপর্দ করে। ওই দিনই বিকালে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে গত ১২ আগস্ট তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন আদালত।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এই মামলার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সালমান শাহকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছিল, কত লাখ টাকার বিনিময়ে তা উঠে এসেছিল।
বর্তমান সরকার আসার পরে ন্যায়বিচার পাওয়ার চেষ্টা করছি। যা অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতা দেখিয়ে ব্যাঘাত ঘটাতো। এখন মানুষ আইনের আশ্রয় নিচ্ছে। এ মামলার যারা আত্মগোপনে আছে তাদেরকে বের করতে হবে। ডনের পালিয়ে যাওয়ার পেছনে কারা তাকে ইন্ধন দিয়েছে সেটাও জানা দরকার। আজ থেকে ৩০ বছর আগে জনপ্রিয় নায়ককে হত্যা করা হয়। ৯৬ এর পরে অনেক নায়ক আসছে কিন্তু সালমান শাহর মতো আর কেউ আসেনি।
পিপি বলেন, ওইদিন একটা হোটেলে নাস্তা করতে গেছি একটা ২২ বছরের ছেলে বলে স্যার সালমান শাহর বিচারটা কি হবে? সুতরাং সঠিক তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হোক।
অপরদিকে ডনের পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান ফরিদুল ইসলসহ কয়েকজন আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।
রিমান্ডের বিরোধিতায় কালাম খান বলেন, ডনের জনপ্রিয়তার কারণেই সালমান শাহ এত জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সে খল অভিনেতা, দেশের জন্য শিক্ষনীয় কাজ করে। তার দেশের জন্য অবদান আছে।
অন্য আইনজীবীদের মধ্যে ফরিদুল ইসলাম আদালতকে বলেন, ডন পালানোর জন্য না সঠিকভাবেই ওমরাহ পালনের জন্য যাচ্ছিলেন। যেটা সে জানতো না যে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। জানলে অবশ্যই যেত না। এ মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে এজাহারে কিভাবে হত্যা করেছে তা কিন্তু নেই। রিমান্ডের ফরোয়ার্ডিংও একই ধরনের।
যে কোনো অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু সেটা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্নভাবে আলোচনা হবে। সামাজিক মাধ্যমে আসা অধিকাংশ কথাই মিথ্যা। আমরা সবাই যে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে। কিন্তু হত্যা হয়েছিল নাকি আত্মহত্যা এটাই প্রকৃত তদন্তের বিষয়। এখানে ডনকে রিমান্ডে নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজনে জেলগেট জিজ্ঞাসাবাদ দেয়া হতে পারে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এটি একটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, আসামির সহযোগী অপরাধীদের অবস্থান নির্ণয় ও তাদের গ্রেপ্তার এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ডন কার ইন্ধনে ও কীভাবে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন, এই তিন মূল কারণে তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।