সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচণা মামলায় প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে সোমবার এই মামলায় অপর একটি আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চারদিন এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
সেই রিমান্ড শেষে আজ মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত মরিয়মের বাবা এস. এম. মাসুম বিল্লাহ। মামলার অপর আসামি হলেন বাদীর শ্যালক মো. ওবায়দুর রহমান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা। এসব নির্যাতনের বিষয় মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন।
এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিশ্বাসকে তার বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি অনেক লোকজনের উপস্থিতি দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, বাসার একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
এ সময় মরিয়মের বিছানার ওপর একটি হাতে লেখা ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে স্বামী গাজী নজরুল ইসলামকে উদ্দেশ করে বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিক কষ্টের কথা লেখা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মরিয়মের বাবার অভিযোগ, মো. ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।